বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। গত তিন দিন ধরে যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তা তিনি গ্রহণ করতে পারছেন—যা আশাব্যঞ্জক লক্ষণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডা. জাহিদ।
তিনি জানান, টানা তিন দিন ধরে খালেদা জিয়ার অবস্থা একই পর্যায়ে রয়েছে। অর্থাৎ চিকিৎসকদের দেওয়া চিকিৎসা তিনি নিতে সক্ষম হচ্ছেন। চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসকদের দায়িত্ব হলেও সুস্থ করে তোলা আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ জন্য দেশবাসীর কাছে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়ার আহ্বান জানান।
বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে ডা. জাহিদ বলেন, ইংল্যান্ড, সৌদি আরব, চীন, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের চিকিৎসকদের সমন্বিত পরামর্শে তার চিকিৎসা চলছে। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সব ধরনের সুবিধাই তিনি পাচ্ছেন। তবে বর্তমান শারীরিক অবস্থায় তাকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব নয়। কিছুটা সুস্থ হলে এবং মেডিকেল বোর্ডের সম্মতি মিললে সে বিষয়ে জানানো হবে।
হাসপাতালে দর্শনার্থীদের ভিড় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়াসহ তিন শতাধিক রোগী ভর্তি আছেন। চিকিৎসক, নার্স ও রোগীদের স্বাভাবিক চলাচলের স্বার্থে এখানে অতিরিক্ত ভিড় হলে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সবাইকে হাসপাতাল এলাকায় না আসার অনুরোধ জানিয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দোয়া করার আহ্বান জানান তিনি।
ডা. জাহিদ আরও জানান, গত ২৭ নভেম্বর থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার চিকিৎসা নিয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন ছেলে তারেক রহমান। মেডিকেল বোর্ড ও বিদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়গুলো দেখভাল করছেন তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান। বর্তমানে হাসপাতালে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত রয়েছেন।