নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে ইতিহাস গড়ার ধারাবাহিকতায় প্রথম মুসলমান ও প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত আমেরিকান কাউন্সিল সদস্য হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন শাহানা হানিফ। তার এই পুনর্নির্বাচন উপলক্ষে সংবর্ধনার আয়োজন করে চট্টগ্রাম সমিতি—যে সংগঠনটি গড়ে তুলেছিলেন তার পিতা মোহাম্মদ হানিফ।
২৩ নভেম্বর রোববার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে আয়োজিত চট্টগ্রাম সমিতির সংবর্ধনা সমাবেশে শাহানা হানিফ বলেন, মামদানি তার মতোই প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনায় বিশ্বাসী একজন মানুষ, যিনি নিজেকে মুসলমান হিসেবে পরিচয় দিতেও কখনো কুণ্ঠাবোধ করেন না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান কমিউনিটিগুলোর মধ্যে অন্যতম অগ্রগামী। সর্বশেষ নির্বাচনেও সেই চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। রাজনীতিতে এই সক্রিয়তাকে অব্যাহত রাখতে পারলেই বহুজাতিক এই সমাজে নিজেদের ‘আমেরিকান স্বপ্ন’ বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হবে। ব্যালটের রাজনীতিতে অংশগ্রহণই আমেরিকান সমাজে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার অন্যতম মাধ্যম।
সিটি কাউন্সিলের বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী একই আসনে পরপর দুই টার্মের বেশি নির্বাচিত হওয়া যায় না উল্লেখ করে শাহানা হানিফ বলেন, শেষ মেয়াদের চার বছরের কাজের মধ্য দিয়েই ভবিষ্যতে তিনি সিটি কম্পট্রোলার, মেয়র, কংগ্রেস কিংবা অন্য কোনো পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না—তা নির্ধারিত হবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিজেকে তিনি পুরোপুরি জনসেবায় নিয়োজিত রেখেছেন এবং মানুষের জন্য কাজ করাটাই তার সবচেয়ে বড় ভালো লাগা। তিনি সবার দোয়া কামনা করেন যেন জীবনের বাকি সময়টুকু সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের পাশে থাকতে পারেন।
সংবর্ধনায় শাহানা হানিফ আরও জানান, ট্যাক্সি ড্রাইভার, ডেলিভারিম্যান ও রেস্টুরেন্ট শ্রমিকদের ন্যায্য পারিশ্রমিক আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সবসময় পাশে রয়েছেন। সম্প্রতি ব্রুকলিনের একটি রেস্টুরেন্টে কর্মরত কয়েকজন বাংলাদেশি শ্রমিকের বকেয়া বেতন আদায়ের আইনি লড়াইয়ে সহযোগিতার ফলে তারা প্রায় ৩০ লাখ ডলার পাওয়ার পথে রয়েছেন।
চট্টগ্রামের সন্তান এবং উত্তর আমেরিকায় চট্টগ্রাম সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হানিফের জ্যেষ্ঠ কন্যা শাহানা হানিফের এই পুনর্বিজয় উপলক্ষে ব্রুকলিনের চট্টগ্রাম ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি আবু তাহের এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি আরিফুল ইসলাম আরিফ।
অনুষ্ঠানে শাহানা হানিফকে ‘বীর চট্টলার অগ্নিকন্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাকে বাংলাদেশের গৌরব বলে মন্তব্য করেন চট্টগ্রাম সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এম এ রহিম। আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি কাজী আজম, ‘আব্দুল কাদের মিয়া ফাউন্ডেশন’-এর প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল কাদের মিয়া, সন্দ্বীপ সোসাইটির সভাপতি ফিরোজ আলম, রাজনীতিক খোরশেদ খন্দকার, বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মকর্তা লায়ন আহসান হাবিব, যুক্তরাষ্ট্র জাসাসের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর সোহরাওয়ার্দী, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির নেতা আবু তালেব চৌধুরী চান্দু, সাংস্কৃতিক সংগঠক সাহাবউদ্দিন চৌধুরী লিটন, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ শামসুল আলম চৌধুরী, মোর্শেদ রিজভী, মিজানুর রহমান জাহাঙ্গীর, নূরল আনোয়ার, শ্রাবণী সিং সিপিএ, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি কামাল হোসেন মিঠু, সাংবাদিক লাবলু আনসার, ব্যবসায়ী নেতা লুৎফুল করিমসহ আরও অনেকে।