আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (একাংশ) এবং আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি–জেপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে দুটি দলের নেতৃত্বে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
জাতীয় পার্টি (একাংশ)-এর মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে জোটভিত্তিক রাজনীতি প্রচলিত রয়েছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলো যখন জোট গঠন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন তাদের দলও সমমনা রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে নিয়ে একটি জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই নতুন জোটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, জাতীয় পার্টি (একাংশ) ও জেপির পাশাপাশি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইসলামী ভাবধারায় বিশ্বাসী একাধিক রাজনৈতিক দলকে এই জোটে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে ইলিয়াস কাঞ্চন ও শওকত মাহমুদের নেতৃত্বাধীন জনতা পার্টি বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি (মতিন), জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)সহ কয়েকটি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
টানা তিন সংসদে বিরোধী দল থাকলেও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের পতনে জাতীয় পার্টি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখে পড়ে। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলে জাতীয় পার্টির ভেতরেও ভাঙন স্পষ্ট হয়। জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি থেকে বেরিয়ে সম্মেলনের মাধ্যমে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বে গঠিত হয় জাতীয় পার্টি (একাংশ)। এদিকে আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিকদের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনও চলেছে। এই প্রেক্ষাপটেই আওয়ামী লীগের এক সময়ের শরিক জেপিকে সঙ্গে নিয়ে নতুন জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জোট গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে জাতীয় পার্টি (একাংশ)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এ নিয়ে ঘরোয়া আলোচনা চলছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ভবিষ্যতে দেশে একটি সুস্থ ধারার রাজনীতি বিকাশের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, খুব শিগগিরই জাতির সামনে নতুন রাজনৈতিক জোটের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটবে।
জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও জেপির কার্যক্রম বা নিবন্ধন বাতিল করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে চুন্নু বলেন, জেপির রাজনীতি নিষিদ্ধ না হওয়ায় এবং নিবন্ধিত দল হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন বা সরকারের কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে বাধা নেই।
নির্বাচন সামনে রেখেই এই জোট গঠন করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ অনুকূল হলে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।