মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি আইনজীবীদের হাতে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আজ পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৩০ কাঠা প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির তিন মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। এদিকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের পাঠানো চিঠি পর্যালোচনা করছে ভারত।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি আইনজীবীরা পেয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, রায়টি পর্যালোচনা শেষে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। একই মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত রাজসাক্ষী ও পুলিশের সাবেক আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের আইনজীবী জানিয়েছেন, পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আইন অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার বিধান রয়েছে। তবে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল পলাতক থাকায় তারা আপিলের সুযোগ পাচ্ছেন না। এর আগে ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে। ৪৫৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আন্দোলন দমনের নির্দেশনা, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের তথ্য এবং অডিও-ভিডিও প্রমাণসহ বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৩০ কাঠা সরকারি জমি বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ৪৭ জনের বিরুদ্ধে করা দুর্নীতি দমন কমিশনের তিন মামলার রায় আজ ঘোষণা করবেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। দুদকের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সাজা দাবি করা হয়েছে।
এদিকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ নিয়ে ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের পাঠানো চিঠি তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পেয়েছে এবং তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, বিষয়টি ভারতের আইনগত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় দেখা হচ্ছে। বিপরীতে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, নয়াদিল্লিকে চিঠি পাঠানো হলেও এখনো কোনো জবাব আসেনি।
অগ্রণী ব্যাংকের লকারে পাওয়া ৮৩২ ভরি স্বর্ণ নিয়েও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দুদক জানিয়েছে, এই স্বর্ণের সবটুকু শেখ হাসিনার নয়; এর একটি অংশ তাঁর বোন শেখ রেহানা ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের। ইনভেন্টরি ও সম্পদ বিবরণীর সঙ্গে মিলিয়ে কার কতটুকু সম্পদ, তা নির্ধারণ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।