সরোজ কান্তি দেওয়াঞ্জী ,
যশোর জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত মণিরামপুর—এক সময়ের প্রভাবশালী জমিদারদের রাজত্বকেন্দ্র। আর তাদের সেই ঐতিহ্যের সর্বশেষ নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে মণিরামপুর জমিদার বাড়ি, যা আজও নীরবে বলে চলে অতীতের রাজকীয় জীবনের গল্প।
ইতিহাসের মলাটে লুকোনো এক অধ্যায়
ব্রিটিশ শাসনামলে জমিদার ব্যবস্থার প্রসারের সাথে সাথে যশোর অঞ্চলের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ হয়। সেই সময়েই গড়ে ওঠে মণিরামপুর জমিদার বাড়ি। জমিদারের রাজনীতি, অর্থনীতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার মূল কেন্দ্র ছিল এই রাজবাড়িটি। বাড়ির প্রতিটি ইট, প্রতিটি দেয়ালে আজও লেগে আছে সেই সময়ের গৌরব, ক্ষমতা আর প্রভাবের স্মৃতি।
স্থাপত্য—যেখানে মুঘল আর ব্রিটিশ সৌন্দর্যের মিলন
মণিরামপুর জমিদার বাড়ির স্থাপত্যশৈলী সত্যিই অনন্য।
এখানে দেখা যায়—
উঁচু খিলান
প্রশস্ত বারান্দা
সুদৃশ্য স্তম্ভ
মোটা দেওয়াল
টেরাকোটার সূক্ষ্ম কারুকাজ
আর আঙ্গিনাজুড়ে ছায়া ফেলা পুরোনো বৃক্ষ
স্থাপত্যের মাঝেই যেন মুঘল ঐতিহ্য, ব্রিটিশ নকশা আর বাংলার আবহ—তিনটি যুগের এক অনবদ্য সমন্বয়।
অতীতের গৌরব, বর্তমানের নিঃসঙ্গতা
সময়ের স্রোতে জমিদারত্ব বিলুপ্ত হয়েছে বহু আগেই। জমিদার বাড়ির বেশিরভাগ অংশই এখন ভগ্নপ্রায়—
তবুও বিস্ময়কর হলো,
এই ভগ্নসৌন্দর্যই দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে সবচেয়ে বেশি।
পুরোনো লোহার দরজা, ভেঙে পড়া বারান্দার ছায়া, নিস্তব্ধ করিডোর—সব মিলিয়ে পুরো পরিবেশটিই যেন আপনাকে টেনে নিয়ে যায় শত বছর আগের এক মহৎ সময়ের ভেতরে।
একটি নিখুঁত ফটোস্পট
মণিরামপুর জমিদার বাড়ি বর্তমানে ফটোগ্রাফার ও ভ্রমণপিপাসুদের প্রিয় গন্তব্য।
ভগ্নশৈলীর সৌন্দর্য
পুরোনো দেওয়ালের টেক্সচার
ছায়ার খেলা
সব মিলিয়ে এটিকে একটি পারফেক্ট চলচ্চিত্রীয় লোকেশন করে তুলেছে।
যেভাবে পৌঁছাবেন
ঢাকা থেকে যশোর বাস বা ট্রেনে পৌঁছে সেখান থেকে লোকাল পরিবহনে সহজেই মণিরামপুর যাওয়া যায়। স্থানীয়দের সহায়তা নিলে জমিদার বাড়ির পথ খুঁজে পাওয়া আরও সহজ।
শেষ কথা
মণিরামপুর জমিদার বাড়ি শুধু একটি পুরোনো স্থাপনা নয়—
এটি হলো ইতিহাসের একটি ফ্রেম,
যেখানে জমিদারদের ক্ষমতা, সংস্কৃতি, শিল্প ও বিলাসিতা
একসময় জীবন্ত ছিল।
আজ যদিও তা নীরব, তবুও তার প্রতিটি কোণে লুকিয়ে আছে
অতীতের অমূল্য গল্প।