অগ্নিকাণ্ডে ঢাকার কড়াইল বস্তি পুড়ে যাওয়ার পর সরকারি উদ্যোগে সেখানে হাইটেক পার্ক নির্মাণ হতে যাচ্ছে বলে যে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে, সেটি সঠিক নয় বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বুধবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এক ফেসবুক বার্তায় হাইটেক পার্ক নির্মাণের দাবি সত্য নয় বলে জানিয়েছেন।
কড়াইল বস্তিতে হাইটেক পার্ক নির্মাণের গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, হাজার হাজার মানুষ যখন অগ্নিকাণ্ডের কারণে বিপর্যস্ত ও নিরাপত্তাহীন অবস্থায় আছে, ঠিক সেই সময় হাই-টেক পার্ক স্থাপনের মতো আজগুবি বিষয় সামনে এনে সরকারকে বিব্রত করার অপচেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
তিনি বলেন, কিছু ব্যক্তি মৌখিক ও লিখিতভাবে এ ধরনের প্রস্তাব দিয়ে এলেও সংগত কারণেই সরকার কখনোই তা আমলে নেয়নি। কড়াইল বস্তির জায়গায় বর্তমানে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের নেই।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কড়াইল বস্তিতে প্রায় ৪৩ একর জমি বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের নামে থাকলেও কর্তৃপক্ষ কখনো বাস্তবে ওই জমির দখল বুঝে পায়নি।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও বলেন, গত বছরের শেষদিকে বনানী কর্নারের যে অংশে কোনো বস্তি নেই, সেখানে সীমিত পরিসরে একটি সফটওয়্যার পার্ক ভবন নির্মাণের প্রস্তাব উঠেছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী কড়াইল এলাকায় যেকোনো অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে আইসিটি বিভাগ সরে আসে।
তিনি জানান, এর পরিবর্তে ঢাকার কারওয়ান বাজার এলাকায় সফটওয়্যার পার্কের নতুন একটি ভবন নির্মাণের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।
শেষে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কড়াইল বস্তিতে বর্তমানে বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ সরকারের নেই।