এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কোমি ও নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেতিজিয়া জেমসের বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক।
বিচারক ক্যামেরন কারির মতে, অভিযোগপত্র দাখিলকারী লিন্ডসে হ্যালিগান আইনি দিক থেকে ওই দায়িত্ব পালনের বৈধতা রাখেন না। রায়ে বলা হয়, হ্যালিগানকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে মনোনয়ন দিলেও তিনি কখনোই সেই পদে থাকার যোগ্য ছিলেন না। কোমি ও জেমস আগেই অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছিলেন।
রায়ের পর হোয়াইট হাউস জানায়, অভিযোগের বাস্তবতা অপরিবর্তিত আছে, এবং এই রায়ই চূড়ান্ত নয়। ট্রাম্পও সামাজিক মাধ্যমে কোমি ও জেমসকে আক্রমণ করে লিখেছেন, “তারা সবাই দোষী,” পরে যোগ করেন, “এখনই ন্যায়বিচার চাই!”
হ্যালিগান আগে হোয়াইট হাউসে সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন এবং কোনো মামলার অভিজ্ঞতা ছিল না। বিচারক জানান, গ্র্যান্ড জুরির সামনে অভিযোগ পেশের অনুমোদনও তার ছিল না। রায়ে উল্লেখ করা হয়, তার ‘ত্রুটিপূর্ণ নিয়োগ’ থেকে নেওয়া সব কার্যক্রম অবৈধ নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগের শামিল, যার মধ্যে কোমির বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিলও অন্তর্ভুক্ত।
হ্যালিগান ছিলেন এরিক সিবার্টের উত্তরসূরি। ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মুখে কোমি ও জেমসের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রস্তুতের নির্দেশের পর গত সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন সিবার্ট। বিচারকের মতে, হ্যালিগানের নিয়োগ অন্তর্বর্তী মার্কিন অ্যাটর্নি নিয়োগবিধি লঙ্ঘন করেছে। আইন অনুসারে ২১ জানুয়ারি সিবার্টকে দায়িত্ব দেওয়ার পর ১২০ দিনের মধ্যে অন্তর্বর্তী নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ ছিল। সেই সময়সীমা ২১ মে শেষ হয়। ফলে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে হ্যালিগান ‘অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন’ করছিলেন।
মামলা খারিজ হয়েছে ‘উইদাউট প্রিজুডিস’ হিসেবে, অর্থাৎ ভবিষ্যতে আইন মন্ত্রণালয় চাইলে নতুন করে মামলা করতে পারবে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, বিচারকের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শিগগিরই আপিল করা হবে। তার দাবি, হ্যালিগানের নিয়োগ আইনসম্মত ছিল এবং বিচারক কোমি ও জেমসকে রক্ষা করতে চাইছেন।
রায়ের পর কোমি জানান, “দ্বেষ ও অদক্ষতার ভিত্তিতে করা একটি মামলা শেষ হওয়ায় কৃতজ্ঞ। তবে জানি, ট্রাম্প আবারও আমাকে নিশানা করবেন।”
২০১৬ সালের নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ তদন্তের পর প্রথম দফায় প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ট্রাম্প কোমিকে বরখাস্ত করেছিলেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বিবৃতি ও বিচার ব্যাহত করার অভিযোগ আনা হয়—ট্রাম্প প্রকাশ্যে এমন আহ্বান জানানোর পর নতুন প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়ে অভিযোগ দাখিল করা হয়।
লেতিজিয়া জেমস এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি রায়ে উচ্ছ্বসিত। তার ভাষায়, “আমি নির্ভীক। নিউইয়র্কবাসীর জন্য প্রতিদিন লড়াই করে যাচ্ছি। ভিত্তিহীন অভিযোগ আমাকে থামাতে পারবে না।” জেমসের বিরুদ্ধে ব্যাংক জালিয়াতি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার আগেই মামলা হওয়ায় এরপর থেকেই তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন।