অনেক পুরুষেরই দৈনন্দিন রুটিনের মধ্যে শেভিং বা দাড়ি কামানো একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সকালে উঠে নিজের চেহারা পরিষ্কার করা, দাড়ি কাটার অভ্যাস- এগুলো অনেকের জন্য এক ধরনের রুটিন।
কিন্তু এই সাধারণ কাজের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি পুরোনো বিশ্বাস – রোজ দাড়ি কামালে বা শেভ করলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখের সমস্যা হতে পারে, দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
ChatGPT said:
নিরাপদ চোখ ও দাড়ি কামানোর সম্পর্ক নিয়ে প্রচলিত ধারণাগুলো যাচাই করলে দেখা যায়, বেশিরভাগই ভুল বোঝাবুঝি। অনেকেই মনে করেন, দাড়ি কামানোর সময় মুখের স্নায়ু চোখের ওপর প্রভাব ফেলে বা নিয়মিত শেভিং চোখের ক্ষতি করে। তবে চিকিৎসা ও স্নায়ুবিজ্ঞান দেখায়, এদের মধ্যে কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
ধারণার উত্পত্তি:
মুখ ও চোখের কাছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্নায়ু থাকে, যেমন ট্রাইজেমিনাল নার্ভ, যা মুখ ও চোখের সংবেদন নিয়ন্ত্রণ করে। অনেকে ভেবেছেন, শেভ করার সময় এই স্নায়ুতে চাপ পড়লে চোখের দৃষ্টি খারাপ হতে পারে। কিন্তু এটি বিজ্ঞানসম্মত নয়।
বিজ্ঞান কী বলে:
চিকিৎসকরা স্পষ্ট করেছেন, দাড়ি কামানো বা শেভিং চোখের দৃষ্টি বা গুরুতর চোখের রোগের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখে না। চোখের স্বাস্থ্য ও মুখের ত্বকের যত্ন সম্পূর্ণ স্বাধীন। ত্বক ছোঁয়া বা শেভিং চোখের ভেতরের অংশকে প্রভাবিত করে না।
চোখের সমস্যার প্রকৃত কারণ:
দৃষ্টিশক্তি কমার প্রধান কারণগুলো হলো জেনেটিক প্রভাব, বয়সজনিত পরিবর্তন, ছানি, ডায়াবেটিস বা চোখের অভ্যন্তরীণ ক্ষতি। বাহ্যিক কর্মকাণ্ড যেমন শেভিং বা দাড়ি কামানো এর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।
দাড়ি কামানোর সাধারণ সমস্যাগুলো:
যদিও দাড়ি কামানো চোখের জন্য ক্ষতিকর নয়, তবু কিছু ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন:
- রেজার পোড়া
- চুলকানি
- ফলিকিউলাইটিস (চুলের গোড়ায় সংক্রমণ)
কিন্তু এসব ত্বক সংক্রান্ত সমস্যা চোখের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না।
রোজ দাড়ি কামানো একেবারে নিরাপদ। চোখের দৃষ্টি রক্ষা করতে শেভিং বন্ধ করার কোনো প্রয়োজন নেই।