হোয়াইট হাউজে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানিকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুরে দেখা গেল নাটকীয় পরিবর্তন। কয়েক মাস আগেও যাকে তিনি প্রকাশ্যে “কমিউনিস্ট” আখ্যা দিতেন, সেই মামদানিকেই এবার ট্রাম্প প্রশংসা করে বললেন— “নিউইয়র্কের জন্য তিনি খুব ভালো মেয়র হবেন।”
২১ নভেম্বর (শুক্রবার) ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডেস্কের পেছনে বসা অবস্থায় ছিলেন, পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মামদানি। সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প জানান, তিনি মামদানিকে মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং নিউইয়র্কে জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে ফেডারেল সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তার ভাষায়— “সে যত ভালো কাজ করবে, আমি ততই খুশি হবো। এখানে দল–মতের প্রশ্ন নয়; আমাদের লক্ষ্য নিরাপদ ও শক্তিশালী নিউইয়র্ক।”
মামদানি বৈঠকটিকে “গঠনমূলক ও বাস্তবসম্মত” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ইউটিলিটি বিলসহ নিউইয়র্কবাসীর দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। “সাড়ে আট মিলিয়ন মানুষ এই শহরকে ঘর বলে—তাদের জীবনকে সহজ করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য,” যোগ করেন তিনি।
প্রশ্নোত্তর পর্বে সাংবাদিকরা অতীতের কড়া মন্তব্য তুলে ধরলে পরিবেশে খানিকটা হাস্যরস তৈরি হয়। ট্রাম্পকে যখন মনে করিয়ে দেওয়া হয় যে মাত্র আগের দিনই তিনি মামদানিকে “কমিউনিস্ট” বলেছিলেন, ট্রাম্প হাসিমুখে বলেন— “মামদানি অনেককে চমকে দিতে পারে।” আর মামদানি যে একসময় ট্রাম্পকে “স্বৈরশাসক” বলেছিলেন—এ প্রশ্নে ট্রাম্প রসিকতার সুরে বলেন, “আমাকে ওর চেয়েও খারাপ বলা হয়েছে!”
রিপাবলিকানদের ধারাবাহিক সমালোচনা, মামদানির নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক, এমনকি নিউইয়র্কের ফেডারেল তহবিল বন্ধের হুমকি—এসব উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই এই বৈঠক নিঃসন্দেহে ছিল বেশ নাটকীয়। ডেমোক্র্যাট অ্যান্ড্রু কুওমোকে হারানোর পর থেকেই মামদানি ছিলেন ট্রাম্পের সমালোচনার কেন্দ্রে, তবে শেষ পর্যন্ত তিনিই জানান— মেয়র–নির্বাচিত মামদানির সঙ্গে সরাসরি বসতে তিনি আগ্রহী ছিলেন।
বৈঠকের শেষদিকে ট্রাম্প আরও বলেন— “সে আলাদা ধরনের নেতা। হঠাৎ উঠে এসে এমন একটি প্রাইমারি জিতেছে, যা কেউ কল্পনাও করেনি। অসাধারণ কাজ করেছে।”
তিনি স্বীকার করেন, মতভেদ থাকলেও নিউইয়র্কের স্বার্থে দুজনেই একসঙ্গে কাজ করবেন। ট্রাম্পের ভাষায়— “সে সফল হলে আমিও খুশি হবো। নিউইয়র্ককে আরও ভালো করতে যা প্রয়োজন—আমরা তাকে সহায়তা করবো।”
হোয়াইট হাউজের এই সাক্ষাৎ তাই শুধু রাজনৈতিক নাটকীয়তা নয়; বরং দুই ভিন্নমতের নেতার মধ্যে অপ্রত্যাশিত সৌহার্দ্য ও সম্ভাব্য সহযোগিতার এক বিরল মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।