মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সীমান্তনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা (বর্ডার জার) টম হোম্যান জানিয়েছেন, ফেডারেল অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিই ইতোমধ্যেই নিউইয়র্ক সিটিতে অভিযান শুরু করেছে। এছাড়া শহরের ‘সাংকচুয়ারি’ নীতির প্রতি প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে আরও বহু এজেন্ট মোতায়েন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ১ জানুয়ারি মেয়র-ইলেক্ট জোহরান মামদানির শপথের আগেই অতিরিক্ত সহস্রাধিক আইসিই সদস্য শহরে পৌঁছে যাবে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হোম্যান বলেন, রাইকার্স আইল্যান্ড জেলে প্রবেশাধিকারের পূর্ববর্তী চুক্তি সিটি কাউন্সিল বাতিল করার পর আইসিইর উপস্থিতি আরও বাড়বে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমরা নিউইয়র্কে আসছি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা না করলে আমাদের এজেন্টদের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ ব্যক্তিদের গ্রেফতার করতেই হবে।”
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি জানান, ঘরভাড়ার সংকট ও ফেডারেল সহায়তা নিয়ে আলোচনা করতে তিনি হোয়াইট হাউসের সঙ্গে কথা বলেছেন। ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রী পরিচয়ের পরও তার অবস্থান তুলনামূলক সংযত। তিনি অভিবাসীদের আইনি সহায়তার জন্য ১৬৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রতিশ্রুতিও দেন।
এদিকে নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন বলছে, ট্রাম্প প্রশাসন স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের একটি কোস্ট গার্ড স্থাপনায় নতুন অভিবাসী আটক কেন্দ্র খোলার বিষয়ে বিবেচনা করছে। কর্মকর্তারা সম্প্রতি ফোর্ট ওয়াডসওর্থ ঘাঁটি পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে নিউইয়র্কে গ্রেফতার হওয়া বহু অভিবাসীকে রাজ্যের বাইরে বিভিন্ন আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল সতর্ক করেছেন যে আইসিই বা ন্যাশনাল গার্ডের বড় ধরনের মোতায়েন নিউইয়র্ক ও দেশব্যাপী অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, “দেশের আর্থিক কেন্দ্র নিউইয়র্ক—এখানে অস্থিরতা তৈরি করলে এর প্রতিকূল ফল সবারই ভোগ করতে হবে।” তিনি আরও জানান, ব্যবসায়ী নেতারা ট্রাম্পকে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়ে মনে করিয়ে দেবেন।
ট্রাম্প এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ অভিবাসন অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আইসিই প্রধানত লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো ও বস্টনের মতো ডেমোক্র্যাটিক নেতৃত্বাধীন শহরগুলোতে সক্রিয়। নিউইয়র্কে এখনো তাদের তৎপরতা সীমিত থাকলেও তা দ্রুত বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নর্থ ক্যারোলাইনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলেও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানায়, শার্লট এলাকায় সপ্তাহান্ত থেকে শুরু হওয়া অভিযানে ২০৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শপিং সেন্টার, কান্ট্রি ক্লাব, গির্জার বাইরে এবং বিভিন্ন স্থানে গ্রেফতার অভিযান চালানো হয়।
র্যালির মেয়র জ্যানেট কাওয়েল বলেন, তাকে জানানো হয়েছে যে মঙ্গলবার থেকেই ফেডারেল এজেন্টরা শহরে প্রবেশ করতে পারে, যদিও অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারির শেষ থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৫ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বহিষ্কার কার্যকর হয়েছে। আইসিইর হিসাবে ২১ জানুয়ারি থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে অপসারণ করা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসীকে। দুই পরিসংখ্যানের অমিল নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।