নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৬ নভেম্বর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “নিউইয়র্কের মেয়র আমাদের সঙ্গে দেখা করতে চান। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। তিনি ওয়াশিংটনে আসতে চান। নিউইয়র্কের সবকিছু ভালোভাবে এগোক—আমরা সেটাই চাই।” হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট পরে নিশ্চিত করেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য নবনির্বাচিত মেয়র মামদানিকে উদ্দেশ্য করে বলা। তবে সাক্ষাতের দিনক্ষণ এখনও নির্ধারিত হয়নি। মামদানির ট্রানজিশন টিমও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প মামদানিকে “লিটল কমিউনিস্ট” বলে সমালোচনা করেছেন এবং ডেমোক্র্যাট দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ও সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুমোকে খোলাখুলি সমর্থন দিয়েছেন। তিনি পরোক্ষভাবে হুমকি দিয়েছেন, মামদানি জয়ী হলে নিউইয়র্কের জন্য ফেডারেল সহায়তা সীমিত করা হতে পারে। কিন্তু সব রাজনৈতিক তিক্ততা ও অভিযোগের মধ্যেও কুইন্সের ৩৪ বছর বয়সী অ্যাসেম্বলিম্যান জোহরান মামদানিই অভূতপূর্ব ভোটার উপস্থিতির মধ্যে জয়ী হন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হোয়াইট হাউসের এই আমন্ত্রণ বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের মাঝেও বাস্তববাদী এক সুর যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম শহরের ভবিষ্যত নির্ধারণে নিউইয়র্ক ও ফেডারেল সরকারের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দুই পক্ষই এখন “বাস্তবিক সমঝোতার” পথে হাঁটতে চাচ্ছে।
মামদানির জয়ের পর ট্রাম্প তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন এবং ফেডারেল সহায়তা প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছেন। রিপাবলিকান পার্টি চেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে মামদানি দায়িত্ব নিতে না পারেন। তারা নানা অভিযোগে তাকে ‘কমিউনিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসীদের সমর্থক’ হিসেবে চিত্রিত করেছে। মিয়ামিতে এক বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেন, নিউইয়র্কের ফলাফল দেশের সার্বভৌমত্বে আংশিক প্রভাব ফেলেছে এবং শহরটি ‘কমিউনিস্ট শহরে’ পরিণত হবে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের ভাষা খানিকটা নরম হয়ে গেছে, যা বিশ্লেষকদের চোখে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইতিহাস গড়া বিজয়ের পর মামদানি বলেছেন, তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি ও বাজারদরের বৃদ্ধিসহ নগরবাসীর সেবা নিয়ে আলোচনায় বসতে আগ্রহী। মজার ছলে তিনি বলেন, “হোয়াইট হাউস থেকে এখনো আমাকে অভিনন্দন জানানো হয়নি।”
মামদানির নির্বাচনী পরিকল্পনায় সাধারণ নাগরিকদের জন্য কর বৃদ্ধি, ভাড়া স্থগিত রাখা, বিনামূল্যে শিশুসেবা এবং ফ্রি বাস পরিষেবা অন্তর্ভুক্ত। ইতিহাসের প্রথম মুসলিম হিসেবে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় তার জয়কে নতুন প্রজন্মের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের বড় রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিউইয়র্কে তার জয়ের প্রভাব পূর্ব উপকূল ছাড়িয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে পর্যন্ত নতুন রাজনৈতিক উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে।