জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক ও ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘোষণার পরপরই বিবিসি, রয়টার্স, আল জাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি, আনন্দবাজার, এনডিটিভিসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এ খবর প্রকাশ করে।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) রায় ঘোষণার পর তা দ্রুতই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জায়গা পায়।
আল জাজিরা ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশের হাসিনার মৃত্যুদণ্ড’ শিরোনামে জানায়, গত বছরের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে মারাত্মক দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে দীর্ঘ বিচার শেষে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
রয়টার্স শিরোনাম করে, ‘ছাত্রদের ওপর দমনপীড়নের মামলায় বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হাসিনা দোষী সাব্যস্ত’। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, নির্বাচনের কয়েক মাস আগে ঘোষিত এই রায় গত বছরের আন্দোলনে নৃশংস দমন-পীড়নের নির্দেশনার জন্য আদালতের দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার সমাপ্তি টেনেছে।
বিবিসি ‘বিক্ষোভ দমনে নৃশংসতার দায়ে বাংলাদেশের সাবেক নেত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড’ শিরোনামে জানায়, মানবতাবিরোধী একাধিক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আনাদোলু এজেন্সি ব্রেকিংয়ে জানায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকার আদালত। এনডিটিভির শিরোনাম—‘মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য বাংলাদেশে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড’। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হাসিনা গত বছরের ছাত্রনেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে নৃশংস দমন-পীড়নের নির্দেশ দেন, যার পরিণতিতে তার সরকারের পতন ঘটে।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল একই অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকেও দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনজনই বিক্ষোভকারীদের হত্যাসহ নৃশংসতা চালানোর জন্য যোগসাজশে কাজ করেছিলেন।
ভারতীয় দৈনিক আনন্দবাজার লিখেছে, ‘শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডই দিল বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনাল! রায় ঘোষণা হতেই হাততালিতে ফেটে পড়ল আদালতকক্ষ।’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনালের রায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।