যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার শার্লট শহরে অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে বৃহৎ অভিযান শুরু করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। শনিবার এক বিবৃতিতে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানায়, ‘অপারেশন শার্লট’স ওয়েব’ শিরোনামের এ অভিযানের লক্ষ্য অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িত বেআইনি অভিবাসীদের গ্রেপ্তার করা।
ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত শার্লটে হঠাৎ এমন ব্যাপক ফেডারেল তৎপরতা শুরু হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন তীব্র অসন্তোষ জানিয়েছে। শহরের মেয়র লি ভাইলেসসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা যৌথ বিবৃতিতে বলেন, এই অভিযান শহরে অপ্রয়োজনীয় ভীতি ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর ট্রাম্প প্রশাসন দেশজুড়ে বড় শহরগুলোতে অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। এর আগে ওয়াশিংটন ডিসি, লস অ্যাঞ্জেলেস ও শিকাগোতে সেনা ও বিশেষায়িত এজেন্ট মোতায়েন করা হয়।
ডিএইচএসের কর্মকর্তা ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন জানান, শার্লটে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাঠানো হচ্ছে যাতে জননিরাপত্তার ঝুঁকি কমানো এবং নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। অভ্যন্তরীণ নথি থেকে জানা গেছে, অভিযানে সাঁজোয়া যান ও বিশেষ অপারেশন টিমও অংশ নিতে পারে।
এদিকে দ্য শার্লট অবজারভার জানায়, শহরের পূর্বাঞ্চলে একটি গির্জায় কাজ করার সময় কয়েকজন ব্যক্তি হঠাৎ এজেন্ট দেখে আতঙ্কে নিকটবর্তী জঙ্গলে ছুটে যায়। পাদ্রির বরাতে জানা যায়, এসময় একজনকে আটক করা হয়েছে।
ডিএইচএস দাবি করছে, উত্তর ক্যারোলিনা প্রায় ১৪ শতাধিক আইসিই আটকাদেশ কার্যকর করেনি, ফলে বহু ব্যক্তি স্থানীয় নীতির কারণে মুক্তি পেয়েছেন। যদিও শার্লট দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসন-বান্ধব শহর হিসেবে পরিচিত।
ডিএইচএসের ভাষ্য, স্থানীয় রাজনীতিকরা যখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হন, তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও সেক্রেটারি নোম দেশের নাগরিকদের সুরক্ষায় এগিয়ে আসবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৈচিত্র্যময় শহর শার্লটে প্রায় ১৭ শতাংশ বাসিন্দা বিদেশে জন্মগ্রহণ করেছেন। অভিযান কতদিন চলবে—এ বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য দেয়নি ডিএইচএস। শিকাগোতে গত সেপ্টেম্বর থেকে চলমান অভিবাসন দমন অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।