নিউইয়র্কে গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছুঁড়ে দিলেন স্টেফানিক
রিপাবলিকান কংগ্রেসউইম্যান এবং দলের নেতা এলিস স্টেফানিক ৭ নভেম্বর শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন। আগামী বছরের নির্বাচনে যদি তিনি বর্তমান গভর্নর ক্যাথি হোকুলকে পরাজিত করতে সক্ষম হন, তাহলে নিউইয়র্ক রাজ্যের আইন অনুসারে তিনি সদ্য নির্বাচিত নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকে অপসারণের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন—যদিও এটি অত্যন্ত বিরল এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল একটি ধাপ।
৪ নভেম্বরের নির্বাচনে ৫০.৪ শতাংশ ভোট পেয়ে নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন মামদানি। হোকুল তার প্রার্থীতাকে সমর্থন করেছিলেন, যা এখন রিপাবলিকান শিবিরের আক্রমণের মূল কেন্দ্রবিন্দু। সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্টেফানিক হোকুলকে “আমেরিকার সবচেয়ে ব্যর্থ গভর্নর” এবং মামদানিকে “অ্যান্টিসেমাইট জিহাদিস্ট কমিউনিস্ট” হিসেবে সমালোচনা করেছেন।
নিউইয়র্কের গভর্নরের হাতে সংবিধান ও সিটি চার্টারের অধীনে স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে অপসারণের ক্ষমতা রয়েছে। আইন অনুযায়ী, গভর্নর অভিযোগ দাখিল ও তদন্তের মাধ্যমে কোনো মেয়রকে পদচ্যুত করতে পারেন। এতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া এবং সাক্ষী জিজ্ঞাসাবাদসহ পূর্ণাঙ্গ শুনানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। তবে এই ক্ষমতা সাধারণত “অফিসিয়াল মিসকন্ডাক্ট” বা “পাবলিক ট্রাস্টের লঙ্ঘন” প্রমাণিত না হলে ব্যবহার করা হয় না। ১৯৩২ সালে তৎকালীন গভর্নর ফ্র্যাঙ্কলিন রুজভেল্ট ম্যানহাটনের শেরিফ থমাস ফার্লিকে অপসারণ করেছিলেন; এরপর থেকে এটি কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্টেফানিক নির্বাচনে জয় লাভ করে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করলে তা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে। কোনো বিচারকও গভর্নরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারবেন না, যা বিষয়টিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। জনমত জরিপে হোকুলের অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। ম্যানহাটন ইনস্টিটিউটের জরিপে স্টেফানিক সামান্য এগিয়ে থাকলেও সিয়েনা কলেজের জরিপে হোকুল ২৫ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
স্টেফানিক নির্বাচনী ঘোষণায় বলেছেন, “নিউইয়র্ক এখন দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল রাজ্য। আমি গভর্নর হলে রাজ্যকে আবার সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করব।” অন্যদিকে মেয়র মামদানি বিজয় ভাষণে বলেন, “আমরা এমন এক প্রজন্মের পরিবর্তন আনব, যারা ভয় নয়, ন্যায়ের শক্তি দিয়ে শাসন করবে। নিউইয়র্ক দেখাবে কীভাবে একনায়কত্বকে পরাজিত করা যায়।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টেফানিকের জয় এবং মামদানিকে অপসারণের সম্ভাবনা মূলত প্রতীকী হলেও, এটি নিউইয়র্ক রাজ্য ও সিটি প্রশাসনের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সদ্য সমাপ্ত মেয়র নির্বাচনের ফলাফল রিপাবলিকান শিবিরে তুমুল নাড় দিয়েছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ফলাফল মেনে নিতে পারছেন না। নির্বাচনের একদিন আগে সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুমোকে সমর্থন দিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু নিউইয়র্কবাসী সেটি বাতিল করেছেন। এবার ২০২৬ সালের স্টেট গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকানদের নজর।
এদিকে স্টেফানিকের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সহজ হবে না। তিনি ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর হোকুলকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন, যিনি আলবেনিতে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে ৪১ বছর বয়সী। ২০১৪ সাল থেকে নিউইয়র্কের ২১ নম্বর কংগ্রেসনাল ডিসট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি এবং ২০১৫ সালের ৩ জানুয়ারি কংগ্রেসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সেপ্টেম্বরে সেনিয়া কলেজের জরিপে হোকুল ৫২% সমর্থন পান, স্টেফানিক ২৭% পান। তবে হোকুলের নেতৃত্বে অসন্তুষ্টির মাত্রা বেশি; যদি ২০২৬ সালে তিনি পুনরায় নির্বাচনে অংশ নেন, ভোটারের ৩৭% তার পক্ষে, ৫১% অন্য কাউকে ভোট দিতে চান এবং ১২% সিদ্ধান্তহীন থাকবেন।
প্রধান নির্বাচনের আগে প্রাইমারি হবে। লেফটেন্যান্ট গভর্নর অ্যান্থনি ডেলগাডো ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে হোকুলের মুখোমুখি হবেন, আর স্টেফানিককে রিপাবলিকান প্রাইমারিতে নাসাউ কাউন্টির নির্বাহী ব্রুস ব্লেকম্যানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হতে পারে।