গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া গণহত্যা মামলার রায় ঘোষণার তারিখ ১৩ নভেম্বর নির্ধারিত হয়েছে বলেও জানা গেছে। বিভিন্ন সূত্রে বলা হচ্ছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও আওয়ামী লীগ ওইদিন বড় ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করছে এবং সামাজিক মাধ্যমে গত কয়েক দিন ধরে প্রচারণা ও প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতারা জানিয়েছেন, এমন পরিস্থিতিতে তারা নির্বিচারে সহিংসতা সৃষ্টি বা বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে দেবে না; যদি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাঠে নামেন, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। দলটির শীর্ষ নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, ১৩ নভেম্বর কেন্দ্র করে যে বিশৃঙ্খলা–নাশকতার কৌশল দেখা গেছে, তার বিরুদ্ধে তারা পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধে তৎপর থাকবে।
সূত্র বলছে, রাজধানীতে আওয়ামী লীগের নাশকতার পরিকল্পনা ফাঁস হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে। ওইদিন ঢাকায় লোকজন জড়ো করতে সামাজিকমাধ্যমে সক্রিয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও থেমে নেই, তাদের গোপন তৎপরতা। এতে জনমনে এক ধরনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে, ওইদিন কী ঘটবে! এমতাবস্থায় পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এনসিপি। পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছে দলটির শীর্ষনেতারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিপির একজন যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম সদস্য সচিব জানান, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তৎপরতা সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাই গণহত্যার হুকুমদাতা শেখ হাসিনার বিচারের রায়কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যমে সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে তাদের। তেমন কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব যাতে না হতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা সরকার ও প্রশাসনের কাজ। তারপরও উদ্ভূত যে কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা মোকাবিলায় ছাত্র-জনতাকে অল্প সময়ের নোটিস তাৎক্ষণিক রাজপথে নামার ডাক দেবে এসসিপি। সেই কর্মসূচি কেমন হবে, তা ঘটনা চক্র ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে বলে এখনই বলা যাচ্ছে না।
এনসিপির শীর্ষ পাঁচ নেতার একজন বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিএনপি-জামায়াত নেতারা নানা কথাবার্তা বলছেন প্রতিদিন। জামায়াতের নেতৃত্বে কিছু দল কর্মসূচিও পালন করছে। বিএনপি ও তার মিত্ররা নির্বাচন নিয়ে কত কথা বলছে। কিন্তু শেখ হাসিনার বিচার, আওয়ামী লীগের সক্রিয় হওয়া এবং নির্বাচন বানচালে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা ও ষড়যন্ত্র নিয়ে সোচ্চার হচ্ছে না, কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকা তো দূরের কথা। এটি চিন্তার বিষয় বৈকি!
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, গণহত্যা মামলায় অভিযুক্ত শেখ হাসিনার বিচারকাজ প্রায় শেষের দিকে। তার বিরুদ্ধে ১৩ নভেম্বর রায়ের দিনক্ষণ জানানো হবে। ফলে ওইদিন বা আগে-পরে দেশ অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা করছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ লক্ষ্যে সারা দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে পারদর্শী এবং আওয়ামী লীগের কট্টর নেতাকর্মীদের ইতোমধ্যেই বাছাই করা হয়েছে। তাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। রাজধানীর অন্তত পাঁচটি স্থানে নাশকতার ডিজিটাল প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ কৌশলের ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।