Dark
Light
Today: November 18, 2025
November 8, 2025
15 mins read

সিটিজেনশিপ পরীক্ষা জানুয়ারিতে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা

নতুন নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব (সিটিজেনশিপ) পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। যারা ২০ অক্টোবরের পর আবেদন করেছেন, তারা এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা দেবেন। নতুন নিয়ম ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পরীক্ষার নোটিশ পাওয়া প্রার্থীদের সিভিক টেস্টের জন্য ১২৮টি প্রশ্নের প্রস্তুতি নিতে হবে। এই ১২৮টি প্রশ্নের প্রস্তুতি বই ইতিমধ্যেই ইউএসসিআইএসের ওয়েবসাইটে উপলব্ধ। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন বছরের জানুয়ারিতেই পরীক্ষা শুরু হতে পারে।

সিটিজেনশিপ পরীক্ষায় চারটি ধাপ থাকবে:

  1. ইংরেজি দক্ষতা: প্রার্থীর পড়া, লেখা, বোঝা ও বলার ক্ষমতা যাচাই করা হবে।
  2. সিভিক জ্ঞান: যুক্তরাষ্ট্রের সরকার, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সরকারি কাঠামো সম্পর্কে প্রার্থীর ধারণা আছে কি না দেখা হবে।
  3. নৈতিক যোগ্যতা: প্রার্থী একজন ‘গুড মোরাল ক্যারেক্টার’-এর অধিকারী কি না এবং অপরাধে যুক্ত কি না, তা যাচাই করা হবে।
  4. ব্যাকগ্রাউন্ড চেক: প্রার্থীর পেছনের তথ্য যাচাই করা হবে, কখনও কখনও প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হতে পারে।

যারা এই সকল ধাপ পার করবেন, তাদের মূল ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হবে। অভিজ্ঞরা বলছেন, যেদিন ইউএসসিআইএস ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকবে, সেদিনই উপস্থিত হওয়া উচিত। তারিখ পরিবর্তন না করাই নিরাপদ। ইন্টারভিউ শুরুর কমপক্ষে ৩০–৪৫ মিনিট আগে পৌঁছানো প্রয়োজন।

প্রার্থী চাইলে অ্যাটর্নি সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন। তবে ইন্টারভিউতে সব প্রশ্নের উত্তর প্রার্থী নিজেই দিতে হবে। অ্যাটর্নি কেবল উপস্থিত থেকে দেখবেন যে সবকিছু ঠিকভাবে হচ্ছে কি না, কোনো অবৈধ আচরণ বা বৈষম্য হচ্ছে কি না, এবং প্রয়োজনে আপত্তি জানাতে পারবেন। সাহসী প্রার্থী চাইলে একাইও যেতে পারেন। ইন্টারভিউ শুরুর আগে অফিসার প্রার্থীর পাসপোর্ট, আইডি বা গ্রিনকার্ড দেখতে চাইতে পারেন।

সিভিক টেস্টের ধাপ:

  • ইন্টারভিউতে ২০টি প্রশ্ন করা হবে। সফল হতে হলে কমপক্ষে ১২টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হবে। যদি প্রার্থী ৯টির বেশি ভুল উত্তর দেন, তিনি ওই ধাপ ফেল করবেন এবং পুনরায় পরীক্ষা দিতে হবে।

ইংরেজি লেখা ও পড়ার পরীক্ষা:

  • লিখন ক্ষমতার জন্য একটি বাক্য সঠিকভাবে লিখতে হবে। প্রথমে সঠিক লিখলেই পাশ, ভুল হলে আবার সুযোগ দেওয়া হবে।
  • পড়ার জন্য অফিসার বাক্য নির্বাচন করবেন, প্রার্থীকে সেটি নির্ভুলভাবে পড়তে হবে। পাশ করতে না পারলে পুনরায় সুযোগ পাবেন।

নতুন নিয়মে এই ধাপগুলো মেনে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।

সিটিজেনশিপ পরীক্ষার সময় আবেদনকারীকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, তিনি যেসব তথ্য দিচ্ছেন ও ফরম পূরণের সময় যেসব তথ্য দিয়েছিলেন, তা যেন হুবহু একই হয়। তথ্যে কোনোভাবেই গরমিল করা যাবে না। কারও বিরুদ্ধে কোনো মামলা থাকলে, কোনো অপরাধের তদন্ত চলতে থাকলে তা উল্লেখ করাই ভালো। কারণ ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করার সময় এসব বিষয় ধরা পড়লে সমস্যা হতে পারে। মামলা নিষ্পত্তি হয়ে থাকলে সেই নথিও সঙ্গে রাখা ভালো, প্রয়োজন হলে সেটি দেখানো যাবে। ট্যাক্স রিটার্নের কপি ও ট্যাক্স ট্রান্সক্রিপ্ট সঙ্গে রাখতে হবে। ট্যাক্স রিটার্ন দেখা হয় মূলত আবেদনকারীর নিয়মিত ট্যাক্স ফাইল করেন কি না এবং সরকার তার কাছে করের কোনো বকেয়া অর্থ পাবে কি না। তাই সিটিজেনশিপ পরীক্ষা দেওয়ার আগে সকল বকেয়া কর পরিশোধ করতে হবে। সেই নথিও সঙ্গে রাখতে হবে। এ ছাড়া সিটিজেনশিপের আবেদনে যেসব প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ এবং না দুভাবেই দেওয়া যায়, সেসব প্রশ্নের উত্তর জেনে-বুঝে সঠিকভাবে দিতে হবে। কারণ সেখানে যৌন অপরাধ, সন্তান-সন্ততির ভরণ-পোষণ না দেওয়া, আগের কোনো স্বামী/স্ত্রী থাকলে সেসব বিষয়, কোনো ক্রিমিনাল সংগঠন বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য কি না প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। অনেকে সাবওয়েতে কিংবা গাড়ি চালাতে গিয়ে টিকিট পান, এ ধরনের কোনো টিকিট পেলে এর বর্তমান পরিস্থিতি এবং নিষ্পত্তি হয়ে গেলে এর প্রয়োজনীয় নথিপত্র রাখতে হবে। মোটকথা একজন গুড মোরাল ক্যারেক্টার ও নিরাপদ মানুষের যেসব যোগ্যতা থাকা দরকার, আবেদনকারীর সেই সব যোগ্যতা থাকতে হবে।
এ বিষয়ে একজন অ্যাটর্নি বলেন, ২০ অক্টোবর থেকে যারা আবেদন জমা দিয়েছেন, তাদের আবেদন পর্যালোচনা শেষে ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক শেষে পরীক্ষা শুরু হতে পারে আগামী দু-তিন মাস পর। এটি আগামী জানুয়ারিতে শুরু হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ সিটিজেনশিপ আবেদন করার পর সব মিলিয়ে তিন থেকে পাঁচ মাসের মতো সময় লাগছে। আবেদন করার পর সব কাজ দ্রুত হলে এর চেয়ে কম সময়েও পরীক্ষা হতে পারে। কেউ যদি কোনো সেকশনে পাস না করেন, তাহলে তাকে পরবর্তীতে যে সেকশনে ফেল করবেন, সেই সেকশনের পরীক্ষা দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি সিটিজেনশিপ পরীক্ষায় পাস করার পর যদি দেশের বাইরে যান বা কোনো ধরনের অপরাধ করেন, তাহলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। প্রার্থীদের শপথ গ্রহণের আগ পর্যন্ত ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করা হয়। কেউ অপরাধ করে থাকলে তার শপথ হবে না। কেউ দেশের বাইরে গেলে কত দিন ছিলেন এবং ওই সময়ে কোনো অপরাধ করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। এ কারণে শপথ বিলম্ব হতে পারে। তাই যারা সিটিজেনশিপ পরীক্ষায় পাস করবেন, তাদের উচিত শপথ নেওয়ার পর আমেরিকান পাসপোর্ট পেয়ে বাইরে যাওয়া। যে দেশে যাবেন, সেই দেশের ভিসা বা নো রিয়ার সিল নিয়ে ভ্রমণ করা।
সিটিজেনশিপের শেষ ধাপ হলো শপথ নেওয়ার পর সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। এর আগে যাদের ওয়ার্ক অথরাইজেশন কার্ড ও গ্রিনকার্ড রয়েছে, সেগুলো অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে। এরপর নাগরিক সনদ নিতে হবে। কেউ চালাকি করে যদি আগে ইস্যু করা কোনো নথি নিজের কাছে রাখেন, তাহলে তার শপথ গ্রহণ নাও হতে পারে। কারও শপথ গ্রহণের সময় কোনো কারণে এসব নথি নিয়ে যেতে ভুলে গেলে তার বাসার কাউকে দিয়ে সেটি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করতে হবে। সিটিজেনশিপের সনদ হাতে পাওয়া এবং শপথ গ্রহণের ভবন থেকে বের হওয়ার পরই কোনো ব্যক্তি স্বাধীন ও পুরোপুরি আমেরিকান নাগরিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Previous Story

মাত্র ৩০ ঘণ্টায় জোহরান মামদানির ট্রানজিশন তহবিলে অর্ধ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ

Next Story

রনির অভিযোগ: ‘হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে ভারত’

Previous Story

মাত্র ৩০ ঘণ্টায় জোহরান মামদানির ট্রানজিশন তহবিলে অর্ধ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ

Next Story

রনির অভিযোগ: ‘হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করছে ভারত’

Latest from Blog

ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে আজ শুনানি

শেখ হাসিনার রায়কে ঘিরে বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগের শুনানি আজ। রোববার (৩০ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে গত বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফজলুর

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন নেই, মশাল রোড শো স্থগিত: রিজভী

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে জানিয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে বিজয়ের মাস উপলক্ষে ঘোষিত ‘মশাল রোড শো’

সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ড নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্য

সচিবালয়ের নবনির্মিত কেবিনেট ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিটকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। রোববার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা। প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের নবনির্মিত

সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমে ভূমিকম্পজনিত ক্ষতি ও প্রাণহানি কমানো সম্ভব।

নিরাপদ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সময়মতো সঠিক প্রস্তুতি নিলে বড় ধরনের ভূমিকম্পের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। বাংলাদেশ ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে, এবং এখনই পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় এড়িয়ে

আইজিপি ইন্টারপোলের সম্মেলন শেষ করে দেশে ফিরেছেন।

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম মরক্কোর মারাকেশে অনুষ্ঠিত ইন্টারপোলের ৯৩তম সাধারণ সম্মেলনে অংশগ্রহণের পর দেশে ফিরেছেন। তিনি গতকাল শনিবার দেশে ফেরেন। এই তথ্য আজ শনিবার পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো
Go toTop

Don't Miss

ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে আজ শুনানি

শেখ হাসিনার রায়কে ঘিরে বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন নেই, মশাল রোড শো স্থগিত: রিজভী

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার