নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোহরান মামদানি বিজয়ী হওয়ার পর প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাত ১০টার পর জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, ব্রঙ্কস ও ব্রুকলিনে আনন্দ সমাবেশে মেতে ওঠেন তারা। ম্যানহাটনে মামদানির প্রধান ক্যাম্পেইন অফিসেও ছুটে যান বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি সমর্থক।
শুরু থেকেই নিউইয়র্কের অধিকাংশ বাংলাদেশি জোহরান মামদানির পক্ষেই ছিলেন। গত ২৪ জুন অনুষ্ঠিত প্রাইমারিতে যেমন বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন, তেমনি ৪ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছিল রেকর্ডসংখ্যক। যদিও সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি, একাধিক সূত্র বলছে—এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি ছিল অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি, এমনকি অনেকেই আগাম ভোটও দিয়েছেন। মঙ্গলবারের নির্বাচনে শহরের প্রায় সব ভোটকেন্দ্রেই বাংলাদেশিদের সক্রিয় উপস্থিতি চোখে পড়ে, যাদের প্রচারণার কেন্দ্রে ছিলেন জোহরান মামদানি। তরুণ প্রজন্মের প্রবাসীরা তাঁর নেতৃত্বেই নিজেদের ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি দেখেছেন।
৩৪ বছর বয়সী এই তরুণ মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রগতিশীল নেতা অল্প সময়েই বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটিতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। বিশেষ করে কুইন্স ও জ্যাকসন হাইটসের মতো এলাকায় তাঁর প্রচারণায় ‘বাংলাদেশি আন্টি’রা হয়ে ওঠেন অন্যতম শক্তিশালী গ্রাসরুটস কর্মী। বিজয়ের খবর আসার পর মঙ্গলবার রাতে তাদের অনেককে রাস্তায় উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তাঁর জনপ্রিয়তার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল প্রচারণায় বাংলা ভাষা ও দক্ষিণ এশীয় সাংস্কৃতিক রেফারেন্সের ব্যবহার, যা মধ্যবয়সী ও প্রথম প্রজন্মের অভিবাসীদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। একইসঙ্গে, ইমিগ্র্যান্টদের অধিকার, সাশ্রয়ী বাসস্থান, রেন্ট কন্ট্রোল, পাবলিক ট্রানজিট ও স্বাস্থ্যসেবার মতো ইস্যুতে তাঁর স্পষ্ট অবস্থান শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত প্রবাসীদের আস্থা অর্জন করেছে।
এছাড়া মুসলিম পরিচয়কে সাহসের সঙ্গে উপস্থাপন করাও তাঁর জনপ্রিয়তার বড় কারণ। অনেকের মতে, মামদানি গর্বের সঙ্গে নিজের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছেন।
গ্রাসরুটস আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছেন জোহরান মামদানি। তাঁর প্রচারণা পরিচালিত হয়েছে ছোট ছোট অনুদান, তরুণ স্বেচ্ছাসেবক এবং কমিউনিটি-নির্ভর সমর্থনের ভিত্তিতে। এক বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবক বলেন, “এটি আসলে সাধারণ মানুষের জয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মামদানির এই জয় কেবল একজন প্রার্থীর সাফল্য নয়—এটি দক্ষিণ এশীয়, বিশেষ করে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের রাজনৈতিক জাগরণের প্রতীক। জোহরান মামদানি এখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে কেবল একজন রাজনীতিক নন, বরং এক প্রেরণা—যিনি দেখিয়েছেন, অভিবাসীদের কণ্ঠস্বরও মূলধারার রাজনীতিতে শক্ত প্রভাব ফেলতে পারে।