আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ২৩৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বাকি ৬৩টি আসনের মধ্যে ৪০টি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর জন্য বরাদ্দের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ২৩টি আসনে পরে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। তবে, আসন বিন্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন বা সমঝোতার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র সঙ্গে বিএনপির আলোচনাও চলছে। যদি দুই দলের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়, তাহলে প্রার্থী তালিকা ও আসন বণ্টনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে—এমন ইঙ্গিত মিলেছে।
বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন, প্রার্থী চূড়ান্তের ক্ষেত্রে তিনটি জরিপের ফলাফল ও দলের উচ্চপর্যায়ের মূল্যায়ন বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ২৬০টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা তৈরি করা হয়, যার মধ্যে ২৩৭টি আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাকিগুলো এখনো পর্যালোচনায় রয়েছে।
৩ নভেম্বর দলের স্থানীয় কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, প্রার্থীদের নাম মূলত স্থায়ী কমিটির মতামতের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়েছে। তবে কয়েকটি আসন এখনো অস্থির অবস্থায় থাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী তালিকায় পরিবর্তন আনা হতে পারে।
খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তিনি নির্বাচন করবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দলীয় নেতারা বলছেন, তাঁর সিদ্ধান্ত বিএনপির সামগ্রিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
অন্যদিকে, বিএনপি-এনসিপি জোট আলোচনায় অগ্রগতি হলে এনসিপিকে কিছু আসনে ছাড় দিতে পারে বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করছেন।
চূড়ান্ত ঘোষণা বাকি থাকা আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে—ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৫, নীলফামারী-১ ও ৩, লালমনিরহাট-২, বগুড়া-২, নওগাঁ-৫, নাটোর-৩, সিরাজগঞ্জ-১, পাবনা-১, ঝিনাইদহ-১, ২ ও ৪, যশোর-৫, নড়াইল-২, বাগেরহাট-১, ২ ও ৩, খুলনা-১, পটুয়াখালী-২ ও ৩, বরিশাল-৩, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-১, টাঙ্গাইল-৫, ময়মনসিংহ-৪ ও ১০, কিশোরগঞ্জ-১ ও ৫, মানিকগঞ্জ-১, মুন্সিগঞ্জ-৩, ঢাকা-৭, ৯, ১০, ১৩, ১৭, ১৮ ও ২০, গাজীপুর-১ ও ৬, নরসিংদী-৩, নারায়ণগঞ্জ-৪, রাজবাড়ী-২, ফরিদপুর-১, মাদারীপুর-২, সুনামগঞ্জ-২ ও ৪, সিলেট-৪ ও ৫, হবিগঞ্জ-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৬, কুমিল্লা-২ ও ৭, লক্ষ্মীপুর-১ ও ৪, চট্টগ্রাম-৩, ৬, ৯, ১১, ১৪ ও ১৫ এবং কক্সবাজার-২।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আলোচনার প্রেক্ষিতে বিএনপির প্রার্থী তালিকা ও আসন সমঝোতায় আরও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।