কয়েক বছর আগেও ছিলেন অচেনা এক মুখ, আর এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে এগিয়ে থাকা প্রার্থী জোহরান মামদানি। ২০১৮ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া এই ৩৪ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে তাঁর উচ্চাভিলাষী ও প্রগতিশীল কর্মসূচি।
তবে আগামী মঙ্গলবারের নির্বাচনের আগে শহরের ভোটারদের মনে এখনও এক মৌলিক প্রশ্ন—দেশের বৃহত্তম এই শহর পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার মতো প্রস্তুত কি তিনি?
শহরের বিভিন্ন এলাকার অন্তত ৫০ জন ভোটারের সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে নানা মত। এমনকি একই পরিবারের সদস্যদের মাঝেও মামদানিকে ঘিরে বিভক্তি স্পষ্ট।
সমর্থকদের কাছে বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের মতো প্রতিশ্রুতি ও তরুণ উদ্যম মামদানির শক্তি হিসেবে দেখা হলেও, অনেক ভোটার তাঁর অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পর সবচেয়ে কঠিন পদ হিসেবে বিবেচিত নিউইয়র্কের মেয়র পদ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকেই। ২১ বছর বয়সী ভোটার স্টিভেন ইয়ে বলেন, “তিনি খুবই তরুণ, অভিজ্ঞতাও কম। তাঁকে ভোট দেওয়া নিয়ে আমি কিছুটা চিন্তিত, এমনকি নার্ভাসও।”
মারিয়া ফাত্তোরে নামে আরেক ভোটার বলেন, “আমি মামদানির দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে একমত, নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব দরকার। তবে শুধু ভাবনা নয়, দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ—আর সে দিক থেকে তিনি এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নন।”
ম্যানহাটনের ব্যাটারি পার্ক সিটির বাসিন্দা সু অ্যান টডহান্টার মামদানিকে সমর্থন করলেও কিছু বিষয়ে দ্বিধা থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই শহরের জটিল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো অভিজ্ঞতা তার (মামদানি) আছে কি না সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। তবে এটুকু বুঝি মেয়রের দায়িত্ব পালন করাটা বিশাল এক দায়িত্ব।’
মামদানির প্রতি তাঁর সমর্থকদের এমন মনোভাব কিছুটা আশাবাদী করছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে (৬৭)। গত জুনে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে (ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া) হেরে যান নিউ ইয়র্কের সাবেক গভর্নর কুয়োমো। অন্য একটি দলের হয়ে তিনি নির্বাচনে লড়ছেন। প্রচারণার শেষ দিনগুলোতে ভোটারদের কাছে গিয়ে ‘অভিজ্ঞতাকেই মূল অস্ত্র’ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। দাবি করেন, মামদানি জয়ী হলে নিউ ইয়র্ক সিটির আর্থিক স্থিতি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। কারণ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মামদানিকে এরইমধ্যে প্রতিপক্ষ হিসেবে ভাবছেন।
গত অক্টোবরে একটি জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়। এতে নিউ ইয়র্কের প্রায় অর্ধেক বাসিন্দা অংশ নেন। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়- মামদানির মেয়র হওয়ার মতো অভিজ্ঞতা আছে কি না? ফলাফলে ৩৯ শতাংশ ভোটার বলেছেন আছে, ৪৭ শতাংশ বলেছেন নেই। বিপরীতে, ৭৩ শতাংশ ভোটার মনে করেন অ্যান্ড্রু কুয়োমোর যথাযথ অভিজ্ঞতা আছে। ২৪ শতাংশের সমর্থন গেছে রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়ার পক্ষে।