নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মুসলিম মেয়র প্রার্থী জোহরান মামদানি তার সমর্থকদের উচ্ছ্বাস এবং ভালোবাসার ঢেউয়ে ভাসছেন। কমিউনিটিতে তাঁর বিজয়ের প্রত্যাশা নতুন উদ্দীপনা জাগাচ্ছে। আগামী ৪ নভেম্বর, মঙ্গলবার, অনুষ্ঠিত হবে ১১১তম মেয়র নির্বাচন। নির্বাচিত হলে মামদানি ৩১ ডিসেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুমো, যাকে সমর্থন দিয়েছেন বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস। বিশ্লেষকরা মনে করেন, মুসলিম প্রার্থী হিসেবে মামদানির সম্ভাব্য জয় নিউইয়র্কের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক ঘটনা হয়ে থাকবে। বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠির মানুষ এবং কমিউনিটি নেতারা দৃঢ়ভাবে মামদানিকে সমর্থন জানাচ্ছেন। বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, লিডার ও এক্টিভিস্টরাও শুরু থেকেই তাঁর পাশে রয়েছেন।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুল, বর্ষীয়ান রাজনীতিক সিনেটর বার্ণি স্যান্ডার্স, কংগ্রেসওম্যান ওকাসিয়া কোর্টেজসহ অন্যান্য প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও মামদানিকে সমর্থন দিয়েছেন। হাজার হাজার তরুণ-তরুণি তাঁর প্রচারণায় নিঃস্বার্থভাবে অংশ নিচ্ছেন। এই তরুণ শক্তি এবং সমর্থনের জোয়ারে ভোটাররা আশাবাদী যে, ৪ নভেম্বর মামদানি নতুন ধারার সূচনা করবেন।
ডেমোক্র্যাট দলের প্রাইমারির ফলাফলের পর থেকেই স্পষ্ট হয়ে গেছে যে তিনি পরবর্তী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন। সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, মামদানি ৪৩% ভোটের সমর্থন পাচ্ছেন, যা ক্যুমোর ৩৩% এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়ারের ১৪% সমর্থনের চেয়ে এগিয়ে।
নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে সবচেয়ে কম বয়সী এবং প্রথম মুসলিম প্রার্থী হিসেবে জোহরান মামদানি এখন ভোটারদের আবেগের কেন্দ্রবিন্দুতে। তিনি গত জুনে দলীয় প্রাইমারিতে সাবেক গভর্নর ক্যুমোকে পরাজিত করে নিজের জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক শক্তি প্রমাণ করেছেন।
নিউইয়র্ক সিটি বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি, শিক্ষা, পর্যটন, ফ্যাশন, ক্রীড়া ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই বৈচিত্র্যের মধ্যে মামদানি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্ল্যাটফর্মে তার মতামত তুলে ধরেছেন।
নিউইয়র্ক সিটির কার্যক্রম মেয়রের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। মেয়র নিয়োগ ও বরখাস্তের ক্ষমতা রাখেন, সিটির বার্ষিক বাজেট প্রণয়নের তদারকি করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম মিউনিসিপাল বাজেট। ২০২৩ সালে এটি ছিল ১০০.৯ বিলিয়ন ডলার।
তবে সাবেক গভর্নর ও প্রতিদ্বন্দ্বী ক্যুমো অভিযোগ করেছেন, মামদানি ইহুদি সম্প্রদায়কে ভীত করেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের হামলার পর তিনি ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেন এবং ইসরায়েলকে ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে দেরি করেন। কার্টিস স্লিওয়ারও রাজনৈতিক স্বার্থে ‘ইসলামোফোবিয়া’ ইস্যু ব্যবহার করেছেন বলে দাবি করেছেন। এরিক অ্যাডামস প্রশাসন এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
মামদানি যদি নির্বাচিত হন, তবে নিউইয়র্কের সাধারণ নাগরিকরা নতুন রাজনৈতিক দিগন্তের সাক্ষী হবেন বলে তাঁর প্রচারণা কমিটি বারবার জানিয়েছে।