আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, যে যাই বলুক ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এ বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে তিনি মনে করেন, সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, রাজনৈতিক দলগুলোরও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থনের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, তা হতাশাজনক। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি এবং গণভোটের সময় নির্ধারণ নিয়ে দলগুলোর বিরোধ এখন তীব্রতম অবস্থায় পৌঁছেছে। “এই তীব্র বিরোধের মধ্যে সমঝোতার দলিল পাস করা সত্যিই একটি বড় চ্যালেঞ্জ,” বলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, “রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য এখনো হয়নি। আগে বিরোধ ছিল সনদের বিষয়বস্তু নিয়ে, এখন যুক্ত হয়েছে আরও দুটি ইস্যু—একটি হলো সনদ কীভাবে পাস হবে, আরেকটি হলো গণভোট কবে হবে।”
রাজনৈতিক দলগুলোর এই পরস্পরবিরোধী ও উত্তেজিত অবস্থানের সমালোচনা করে আসিফ নজরুল বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থনের পক্ষে থাকা দলগুলো এমন উত্তেজনাপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে যে, সরকার কী করবে সেটাই এখন প্রশ্ন। আমরা সত্যিই চিন্তিত।”
তিনি আরও বলেন, “এতদিন আলোচনার পরও যদি ঐকমত্য না আসে, তাহলে এখন আমাদের সামনে কী করণীয়—এটা নিয়ে সরকারকে ভেবে দেখতে হচ্ছে।”
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের সময় নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান উপদেষ্টা—এ কথা জানিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, “এসব বিষয়ে সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান উপদেষ্টা, আমরা কেবল তাঁকে সহায়তা করব। কোনো একক ব্যক্তি বা পক্ষের সিদ্ধান্ত নয়—এ বিষয়ে সবাই নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।”