জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। আগামী ১৩ নভেম্বর রায়ের তারিখ ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার যুক্তিতর্ক শেষে প্রসিকিউশনের পক্ষে সমাপনী বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তারা শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন।
অন্যদিকে, দুই আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী আমির হোসেন সমাপনী বক্তব্য দেন। মামলার তৃতীয় আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন নিজের দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষে মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ ও মঈনুল করিমসহ চারজন প্রসিকিউটর যুক্তিতর্কে অংশ নেন। টানা পাঁচদিনের শুনানিতে তারা ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে সংঘটিত গুম, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনাসহ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ইতিহাস তুলে ধরেন।
মোট ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয় ৮ অক্টোবর। এর আগে ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান কামাল ও চৌধুরী মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ নিয়ে গঠিত এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রের আয়তন ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠা, যার মধ্যে ২ হাজার ১৮ পৃষ্ঠা তথ্যসূত্র, ৪ হাজার ৫ পৃষ্ঠা দালিলিক প্রমাণ ও জব্দতালিকা, এবং ২ হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠা শহীদদের তালিকা সংক্রান্ত বিবরণ। সাক্ষী করা হয়েছে মোট ৮১ জনকে। গত ১২ মে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটরের কাছে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।