ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে অধিকৃত পশ্চিম তীরে দেশটির সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব সংক্রান্ত একটি বিল প্রাথমিকভাবে অনুমোদন পেয়েছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটে ১২০ আসনের মধ্যে ২৫ জন সমর্থন ও ২৪ জন বিরোধিতা করেন। তবে আইন হিসেবে কার্যকর হতে বিলটির আরও তিন দফা অনুমোদন প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার লিকুদ পার্টি এ বিলের বিপক্ষে অবস্থান নিলেও কয়েকজন জোটসঙ্গী ও বিরোধী এমপি সমর্থন জানিয়েছেন। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে এমন পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
নেসেটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, জুদিয়া ও সামারিয়া (পশ্চিম তীর) অঞ্চলে ইসরাইল রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রয়োগের উদ্দেশ্যে বিলটি প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে এবং এখন এটি নেসেটের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটিতে আলোচনার জন্য যাবে। এ ভোট এমন এক সময় হয়েছে, যখন মাত্র এক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন— তিনি ইসরাইলকে পশ্চিম তীর দখল করতে দেবেন না। একই দিনে গাজায় যুদ্ধবিরতি জোরদার করতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসরাইল সফরে ছিলেন।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
বিলটি পাসের পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। ১৫ অক্টোবর টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এটা হবে না, একেবারেই হবে না। আমি আরব দেশগুলোকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম— ইসরাইল পশ্চিম তীর দখল করবে না। আমাদের আরবদের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে। যদি তারা এমনটা করে, তাহলে ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সব ধরনের সমর্থন হারাবে।”
টাইম ম্যাগাজিন বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করে। একই দিন ইসরাইল সফর শেষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, “যদি এটি রাজনৈতিক কৌশল হয়ে থাকে, তবে এটি অত্যন্ত বোকামিপূর্ণ। আমি ব্যক্তিগতভাবে এতে কিছুটা অপমানিত বোধ করছি।” তিনি আরও বলেন, “পশ্চিম তীর ইসরাইলের দখলে যাবে না— এটিই ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান, এবং এ নীতি অব্যাহত থাকবে।”