নিউইয়র্কে ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এজেন্টরা সিটির বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অভিবাসিদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে। ম্যানহাটন, জ্যাকসন হাইটসের ব্রডওয়ে, নর্দার্ণ ব্লুবার্ড এবং ব্রুকলিনে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আইস-এর পরিচালক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘নিউইয়র্কে এই অভিযান আগামী দিনে আরও জোরদার করা হবে’। ম্যানহাটনের অভিযানে একজন বাংলাদেশির গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লেও পরে তা ভুয়া হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
অভিযান চলাকালীন প্রধান সড়ক, কর্মস্থল ও মার্কেটে অভিযান চালানো হয়েছে, যা কমিউনিটিতে বসবাসরত অবৈধ বাংলাদেশিদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। হাজারো কাগজপত্রহীন বাংলাদেশি আত্মগোপনে রয়েছেন, লোকালয়ে আসছেন না এবং অনেকেই কর্মস্থলে যাওয়ায় ভয় পাচ্ছেন। অভিযানের খবর সোশ্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা—যেমন জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা ও ব্রুকলিনে—মানুষকে সতর্কভাবে চলাফেরা করতে দেখা গেছে।
গত মঙ্গলবার বিকেলে ম্যানহাটনের চায়না টাউনের ক্যানাল স্ট্রিটে অভিযানটি বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে। অভিযানের সময় কয়েকজন রাস্তার বিক্রেতাকে আটক করা হয়, যারা পথচারী ও অভিবাসী অ্যাটর্নির সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন। অপারেশনটি বেলা তিনটায় শুরু হয়। আইস এজেন্টরা মূলত নকল পণ্য বিক্রেতাদের আটক করতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এরা জাল পণ্য বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের প্রশ্ন করার জন্য সেখানে ছিলেন।
অভিযানের সময় উপস্থিত নিউইয়ার্কাররা তাদের সেলফোনে আইস অপারেশন রেকর্ড করতে শুরু করেন। কিছু দর্শক এজেন্টদের দিকে চিৎকার করে গ্রেপ্তারের সমালোচনা করেন এবং একজনকে মাটিতে ফেলে দেওয়ার সময় তাদের থামার দাবি জানান। সূত্রে জানা যায়, যখন একজন আফ্রিকান পণ্য বিক্রেতাকে আটক করা হচ্ছিল, তখন উপস্থিত মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। কেউ কেউ আইস এজেন্টদের নাৎসি এবং ফ্যাসিস্ট বলে অভিহিত করে প্রতিবাদ জানান। এজেন্টরা যখন অভিযানের পরে গাড়িতে ওঠেন, তখন আরও মানুষ রাস্তায় ছুটে আসে। সংঘর্ষের সময় আইস এজেন্টরা মানুষকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন, যা জনতার মধ্যে আরও ক্ষোভ সৃষ্টি করে। পরে কিছু মানুষ এজেন্টদের অনুসরণ করে ২৬ ফেডারেল প্লাজায় যায়, যেখানে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে বহু অভিবাসীকে আটক করা হয়েছিল।
নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের সভাপতি ও সিইও মুরাদ আওয়াদেহ অ্যাম নিউইয়র্ককে বলেন, “এ ধরনের অভিযান কাউকে নিরাপদ করে তোলে না। বরং প্রত্যেককে আরও অনিরাপদ করে তোলে, যখন মানুষ মনে করে তারা তাদের সমস্যা নিয়ে পুলিশ বা আইন প্রয়োগকারীদের কাছে যেতে পারবে না।”
এদিকে, বাফেলো শহরে গত সপ্তাহে হামলা চালিয়ে আইস পুলিশ ৪৫ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি মহিলাকে আটক করেছে।