সপ্তাহের তৃতীয় কর্মদিবস বুধবার শাটডাউন অবসান হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ওপর জেঁকে বসা অনিশ্চয়তার কুয়াশা এখনো কাটেনি বলে মত দিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
কংগ্রেসে পাস হওয়া ব্যয় বিলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের মাধ্যমে টানা ৪৩ দিনের সরকারি অচলাবস্থার অবসান হয়। তবে এর পরও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কতটা স্থিতিশীল হবে, সে বিষয়ে সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা।
রয়টার্সে লেখা এক কলামে প্রায় তিন দশক ধরে আর্থিক খাতে কাজ করা সাংবাদিক জেমি ম্যাকগিভার উল্লেখ করেন, ইতিহাসের দীর্ঘতম এই শাটডাউন শেষ হলেও অর্থনীতির আনুষ্ঠানিক ডেটা এখনো পুরোপুরি সামনে আসেনি। এতে বিনিয়োগকারী ও ফেডারেল রিজার্ভ স্বস্তি পেলেও শিগগিরই যে সতর্ক সংকেত মিলবে, তা মোটেও আশাব্যঞ্জক নাও হতে পারে।
তিনি লেখেন, শাটডাউনের কারণে বিলম্বিত বহু অর্থনৈতিক সূচক এখন ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে শুরু করবে। মর্গান স্ট্যানলির অর্থনীতিবিদদের ধারণা—শাটডাউন শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরই কৃষি-বহির্ভূত খাতে বেতনভুক্ত কর্মীদের রিপোর্ট প্রকাশ হতে পারে, কারণ প্রয়োজনীয় ডেটা আগেই সংগ্রহ করা হয়েছিল।
কলামে আরও বলা হয়, নিউ সেঞ্চুরি অ্যাডভাইজার্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্লদিয়া সাহমের মতে, ১৯৪৮ সালের পর এই প্রথম গত অক্টোবরে ‘হাউসহোল্ড সার্ভে’—যার ওপর ভিত্তি করে বেকারত্বের হার নির্ধারিত হয়—পরিচালিত হয়নি।
ম্যাকগিভার লিখেছেন, আগের মাসের তথ্য না নেওয়ায় এই জরিপের শূন্যতা ডিসেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
তার মূল্যায়ন, ফেডারেল রিজার্ভ যে কর্মসংস্থানের তথ্য পেতে যাচ্ছে, সেটি নিশ্চয়ই স্বস্তিদায়ক নয়। বেসরকারি খাত ও সরকারি সীমিত ডেটার ভিত্তিতে গোল্ডম্যান স্যাকসের অর্থনীতিবিদরা অনুমান করছেন, অক্টোবরে কৃষি-বহির্ভূত খাতে কর্মসংস্থান কমেছে ৫০ হাজার—যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন।