নিউইয়র্ক সিটি নির্বাচনের চূড়ান্ত মুহূর্তে তীব্র প্রচারণা চালাচ্ছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোহরান মামদানি। শনিবার (১ নভেম্বর) তিনি সরাসরি তার প্রতিদ্বন্দ্বী এন্ড্রু ক্যুমোর প্রধান ভোটব্যাংক—শহরের কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো সম্প্রদায়ের মধ্যে পদক্ষেপ নেন।
সকালে মামদানি ইস্ট হারলেমে উপস্থিত হন, যেখানে তার পাশে ছিলেন নাগরিক অধিকার নেতা রেভারেন্ড আল শার্পটন। একসময় ক্যুমোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী শার্পটন এদিন মঞ্চে প্রকাশ্যে মামদানিকে সমর্থন জানিয়ে তার বিরোধীদের ‘কুরুচিপূর্ণ ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণা’ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “কিছু প্রার্থী মুসলিম পরিচয়কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যা লজ্জাজনক ও বিপজ্জনক।”
এরপর মামদানি ব্রুকলিনে যান এবং এক চার্চ সার্ভিসে অংশ নেন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন কংগ্রেসের হাউস মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফ্রিস এবং নিউইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস। শহরের কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে এই দুই নেতার প্রভাব বিশাল, এবং তাদের উপস্থিতি মামদানির প্রচারণায় নতুন শক্তি যোগ করেছে।
দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল ফোনালাপ—সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিজেই মামদানির সঙ্গে কথা বলেন। নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, ওবামা নির্বাচনে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, জয়ী হলে তিনি পরামর্শদাতা ও ‘সাউন্ডিং বোর্ড’ হিসেবে পাশে থাকবেন।
মামদানি স্পষ্টভাবে ক্যুমোর ঐতিহ্যগত কৃষ্ণাঙ্গ ভোটব্যাংককে কেন্দ্র করে তার জয় নিশ্চিত করতে চাইছেন। সাম্প্রতিক জরিপে দুই প্রার্থীর ব্যবধান কমে আসায়, নির্বাচনের শেষ তিন দিনে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সমর্থন পাওয়াকে তার শিবিরে ‘ফাইনাল স্ট্রেচ স্ট্র্যাটেজি’ বলা হচ্ছে।
প্রচারণায় মামদানি জাতি, ধর্ম ও পরিচয়ের রাজনীতিকে একপাশে রেখে ঐক্যের বার্তা দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “নিউইয়র্ক সব রঙের, সব ধর্মের মানুষের শহর—এই নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব বদলের নয়, ঘৃণার রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যানেরও সুযোগ।”
মঙ্গলবার ভোটের মাধ্যমে নিউইয়র্কবাসী ঠিক করবেন কে হবে তাদের পরবর্তী মেয়র, তবে নির্বাচনের শেষ সপ্তাহান্তে শহরজুড়ে একটাই বার্তা স্পষ্ট—মামদানি এখন সরাসরি ক্যুমোর মূল ঘাঁটিতে আক্রমণ চালাচ্ছেন।