Dark
Light
Today: November 18, 2025
November 20, 2025
22 mins read

‘শেখ হাসিনা ইস্যু’ বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কতটা প্রভাবিত করতে পারে?

বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর এটি বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ককে কীভাবে প্রভাবিত করবে তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বাংলাদেশে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তার পর নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ‘শেখ হাসিনা ইস্যু’ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে কতটা বাধা সৃষ্টি করবে, সেটিও অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় আসা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক তলানিতে ছিল। এই প্রেক্ষাপটে এখন ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি কেমন হবে, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে।

শেখ হাসিনার মামলার রায়ের পর বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, তারা ভারতের কাছে আবারও ‘নোট ভারবাল’ পাঠিয়ে তাকে প্রত্যর্পণের জন্য অনুরোধ করবে। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি তাদের জানা আছে।

এদিকে, বুধবার দিল্লিতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় শেখ হাসিনা ইস্যু অন্তর্ভুক্ত ছিল কি না, তা এখনও জানা যায়নি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ড. ইউনূসের সরকারের সময় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম ছিল। ফলে প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ভারতের সাড়া পাওয়ার সম্ভাবনাও সীমিত। নির্বাচনের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে সম্পর্ক কতটা স্বাভাবিক হবে, তা মূলত নতুন সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভারতের নীতি নির্ধারণের ওপর নির্ভর করবে।

উল্লেখ্য, ১৭ নভেম্বর ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে। সাবেক আইজিপি ও মামলার রাজস্বাক্ষী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান ভারতে অবস্থান করছেন, আর মামুন ইতোমধ্যেই গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।

বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান:
ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, সরকার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে পুনরায় অনুরোধ জানাবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এক বিবৃতিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানায়, তারা যেন অনতিবিলম্বে দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করে।

এর আগেও অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করলেও ভারত সরকার এ বিষয়ে কখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

তবে ভারত সরকারের এ বিষয়ে এ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক অবস্থান হলো, ‘একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষা ও নিরাপত্তার কথা ভেবে তাকে এদেশে ‘সাময়িক’ (ফর দ্য টাইম বিয়িং) আশ্রয় দেওয়া’।

বাংলাদেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা ভারতের ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলছেন, প্রত্যর্পণ একটি জটিল বিষয় এবং এক্ষেত্রে কাউকে প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে মৃত্যু হুমকির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়ে থাকে।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, বাংলাদেশে তো শেখ হাসিনার মামলায় মৃত্যুদণ্ডই দেওয়া হয়েছে। ফলে সেই হুমকিটি তো আছেই। ফলে আপাতত এটুকু বোঝা যাচ্ছে যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিক হচ্ছে না। তবে প্রশ্ন হলো, এই ইস্যুতেই দুই দেশের সব কিছু আটকে থাকবে কি-না। 

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এখন যে প্রত্যর্পণ চুক্তি আছে তাতে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরই হস্তান্তরের অনুরোধ করার সুযোগ থাকে। কিন্তু তারপরেও ওই চুক্তিতে এমন অনেক বিষয় আছে যেগুলো বিবেচনায় নিয়ে এমন অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের সুযোগও রয়েছে।

শ্রীরাধা দত্ত বলছেন, বাংলাদেশের আদালতে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর এটা এখন পরিষ্কার যে, বাংলাদেশে তার মৃত্যু হুমকি রয়েছে এবং এটিই ভারত সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে হস্তান্তর না করার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করেন তিনি।

নতুন সরকারকেও এই চ্যালেঞ্জ নিতে হবে?

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে ভারত সরকারের সম্পর্ক একেবারেই তলানিতে। এমনকি ভারতে বসে শেখ হাসিনা সংবাদ মাধ্যমে যেসব কথাবার্তা বলছেন তা নিয়েও বারবার উষ্মা প্রকাশ করে কোনো ফল পায়নি ড. ইউনূসের সরকার।

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা সীমিত করে রেখেছে ভারত সরকার এবং এর অংশ হিসেবে পর্যটন ভিসা দেওয়া একেবারেই বন্ধ হয়ে আছে। অল্প সংখ্যক মেডিকেল ভিসা দেওয়া হলেও তা পেতেও বেগ পেতে হচ্ছে ভারতে চিকিৎসার জন্য যেতে ইচ্ছুক রোগী ও তাদের স্বজনদের।

আবার বাংলাদেশে ড. ইউনূসের সরকারের সঙ্গে সদ্ভাব আছে এমন কিছু রাজনৈতিক দল ও নেতা ভারত বিরোধী বক্তব্যও দিয়ে আলোচনায় এসেছেন বিভিন্ন সময়ে। ‘বক্তব্য এসেছে’ ভারতের সেভেন সিস্টার্স হিসেবে পরিচিত রাজ্যগুলোকে নিয়েও, যা ভারতীয়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ে হামলা ও পতাকা পোড়ানোর ঘটনাও ঘটেছে গত বছরের ডিসেম্বরে। অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশে হাসিনা-পরবর্তী সরকারের উষ্ণ সম্পর্ক নিয়েও উদ্বেগ আছে ভারতীয়দের মধ্যে।

ভারতীয় বিশ্লেষকরা সবসময় বলে আসছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের পর ভারত সরকারের বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছেন নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগ। আবার বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বেশ কয়েকবার। সেখানকার গণমাধ্যমগুলোতেও সংবাদ, গুজব, অপতথ্য প্রচার হতে দেখা গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতির সুযোগ খুব একটা নেই বলেই ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

‘আবার ধারণা এটা আরও জটিল হবে। কারণ এখন ভারত সরকারও হয়তো আইনজ্ঞদের পরামর্শ নেবে। বিষয়টা সহজ কিছু না। বাংলাদেশ চাইলেই ভারত রাজি হবে তা নয়,’ বলছিলেন শ্রীরাধা দত্ত।

কিন্তু আগামি ফেব্রুয়ারিতে যে নির্বাচন বাংলাদেশে হওয়ার কথা সেই নির্বাচনের মাধ্যমে যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসবে তাকে এই টানাপোড়েনের সম্পর্ক কতটা বহন করতে হবে- সেই আলোচনাও শুরু হয়েছে।

সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির বলছেন, এটা নির্ভর করবে আগামী সরকার কীভাবে বা কোন কৌশলে ইস্যুটি মোকাবিলা করবে তার ওপর।

এখানে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হবে। প্রথমত, নির্বাচনের পর বাংলাদেশে কী ধরনের সরকার হয়। দ্বিতীয়ত সেই সরকারের সঙ্গে ভারত কোন ধরনের সম্পর্ক করতে আগ্রহী এবং তৃতীয়ত, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ কী ধরনের ভূমিকা নেয়, রাজনীতিতে কতটা সক্রিয় হয়, বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

তার মতে, শেখ হাসিনা ইস্যুকে একপাশে রেখে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা তখন দুই দেশের সরকার করতে পারে। আবার এটিকে সামনে রেখেই বাংলাদেশ সরকার তাদের দাবি-দাওয়াগুলো বারবার তুলে ধরার চেষ্টাও করতে পারে।

আবার আওয়ামী লীগ সক্রিয় বেশি হলে সরকারও শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের দাবিটিতে জোর দিতে পারে। তখন সম্পর্ক কেমন হয় সেটিও দেখার বিষয় হবে। ফলে বাংলাদেশের নতুন সরকারের চরিত্র ও দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হয় তার ওপর দুই দেশের সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি অনেকটা নির্ভর করবে, বলছিলেন কবির।

অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্তও বলছেন, তিনি মনে করেন নির্বাচনের পর বাংলাদেশের নতুন সরকারও হয়তো ভারত সরকারকে একই অনুরোধ করবে বারবার।

‘আমার ধারণা এটাকে ইস্যু করে রাখলে সম্পর্ক খারাপ হবে। বরং এটিকে এক পাশে রেখে দুই সরকার কাজ করলে সম্পর্ক সহজ ও স্বাভাবিক হওয়ার দিকে এগুবে। কোনো ইস্যুতে আটকে রেখে অগ্রসর হওয়া যাবে না,’ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

অর্থাৎ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসারও পরেও দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থাকবে শেখ হাসিনাই।

তবে শ্রীরাধা দত্ত মনে করেন–– সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চাইলে দুই দেশের সরকারকেই এটি একপাশে সরিয়ে রেখে গুরুত্বপূর্ণ অন্য সব ইস্যুতে একযোগে কাজ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Previous Story

দিল্লিতে অজিত দোভালের সঙ্গে খলিলুর রহমানের সাক্ষাৎ

Next Story

বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ব্যবসায়িক ভিসা চালু রয়েছে: প্রণয় ভার্মা

Previous Story

দিল্লিতে অজিত দোভালের সঙ্গে খলিলুর রহমানের সাক্ষাৎ

Next Story

বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ব্যবসায়িক ভিসা চালু রয়েছে: প্রণয় ভার্মা

Latest from Blog

ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে আজ শুনানি

শেখ হাসিনার রায়কে ঘিরে বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগের শুনানি আজ। রোববার (৩০ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে গত বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফজলুর

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন নেই, মশাল রোড শো স্থগিত: রিজভী

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে জানিয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে বিজয়ের মাস উপলক্ষে ঘোষিত ‘মশাল রোড শো’

সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ড নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্য

সচিবালয়ের নবনির্মিত কেবিনেট ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিটকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। রোববার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা। প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের নবনির্মিত

সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমে ভূমিকম্পজনিত ক্ষতি ও প্রাণহানি কমানো সম্ভব।

নিরাপদ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সময়মতো সঠিক প্রস্তুতি নিলে বড় ধরনের ভূমিকম্পের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। বাংলাদেশ ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে, এবং এখনই পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় এড়িয়ে

আইজিপি ইন্টারপোলের সম্মেলন শেষ করে দেশে ফিরেছেন।

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম মরক্কোর মারাকেশে অনুষ্ঠিত ইন্টারপোলের ৯৩তম সাধারণ সম্মেলনে অংশগ্রহণের পর দেশে ফিরেছেন। তিনি গতকাল শনিবার দেশে ফেরেন। এই তথ্য আজ শনিবার পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো
Go toTop

Don't Miss

ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে আজ শুনানি

শেখ হাসিনার রায়কে ঘিরে বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন নেই, মশাল রোড শো স্থগিত: রিজভী

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার