দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে চীন গত ৬ সেপ্টেম্বর বিজয় দিবস উদযাপন করেছে। বেইজিংয়ে এই উপলক্ষে পিপলস লিবারেশন আর্মির বিশেষ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চীনের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করেন, যেখানে ছিল পরমাণু অস্ত্রবহনে সক্ষম দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ও হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র, পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান, লেজার অস্ত্র এবং রোবট নেকড়ের মতো অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র।
এই অনুষ্ঠানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং উত্তর কোরিয়ার সুপ্রিম লিডার কিম জং উন উপস্থিত ছিলেন। শি জিনপিং তাদের দু’জনের মাঝে দাঁড়িয়ে গ্রুপ ছবি তোলেন। একই মঞ্চ থেকে চীনা প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারিও দেন। চীন ও রাশিয়ার এই ঘনিষ্ঠতা আমেরিকাকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। চীনের সামরিক কুচকাওয়াজের ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আমেরিকাজুড়ে হইচই শুরু হয়।
ট্রাম্পের নির্দেশ ও পেন্টাগনের নাম পরিবর্তনের সুপারিশ
চীনের এই শক্তি প্রদর্শনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেকোনো পরিস্থিতির জন্য পেন্টাগনকে প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য রুশ ও চীনা আগ্রাসন ঠেকাতে ৪ সেপ্টেম্বর তিনি এই নির্দেশ দেন। শুধু তাই নয়, তিনি ৭৬ বছর পর প্রতিরক্ষা সদর দফতরের নাম পরিবর্তন করে ‘যুদ্ধ মন্ত্রণালয়’ করার সুপারিশও করেছেন। ট্রাম্পের মতে, এর মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে আমেরিকার শক্তিশালী ভাবমূর্তি তুলে ধরা সহজ হবে
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিড হেক্সেট ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়ে প্রেসিডেন্ট আমেরিকার যুদ্ধনীতির প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছেন। তবে তিনি শান্তিকামী এবং জোর করে কোনো সংঘর্ষ শুরু করা তার উদ্দেশ্য নয়।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ান, জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়াকে কেন্দ্র করে চীন সরাসরি আমেরিকার সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে পারে। এক্ষেত্রে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া ছাড়াও চীনের পাশে থাকতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের কট্টর শত্রু ইরান। অন্যদিকে, আমেরিকা ন্যাটো, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের মতো পরমাণু শক্তিধর মিত্রদের নিয়ে যুদ্ধে জড়াতে পারে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, আমেরিকার আগের প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে চীন ও রাশিয়া এমন জোট গড়তে পেরেছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমেরিকার সামরিক সক্ষমতা মহাকাশ থেকে সমুদ্রের গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।