মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে একটি শহর ও তিনটি অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদে রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া পরাজিত হয়েছেন। নিউ জার্সি ও ভার্জিনিয়ার গভর্নর পদেও ট্রাম্পের সমর্থিত প্রার্থীরা জয় পাননি। ক্যালিফোর্নিয়ায় সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত গণভোটেও রিপাবলিকানদের প্রস্তাব ভোটারদের সমর্থন পায়নি।
নিউ জার্সিতে বড় ব্যবধানে জয়
নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, নিউ জার্সির গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মিকি শেরিল রিপাবলিকান জ্যাক সিয়াতারেলিকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। শেরিল পেয়েছেন ১৭ লাখ ৯২ হাজার ৭৬০ ভোট, আর সিয়াতারেলি পেয়েছেন ১৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩৯১ ভোট। ট্রাম্পবিরোধী মনোভাবকে দক্ষভাবে কাজে লাগানোই তাঁর জয়ের অন্যতম কারণ বলে বিশ্লেষকদের মত।
৫৩ বছর বয়সী মিকি শেরিল একসময় মার্কিন নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার পাইলট ও সরকারি কৌঁসুলী ছিলেন। তিনি নিউ জার্সির দ্বিতীয় নারী ও ৫৭তম গভর্নর হতে যাচ্ছেন।
ভার্জিনিয়ায় প্রথম নারী গভর্নর
এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, ভার্জিনিয়ার গভর্নর নির্বাচনে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ডেমোক্র্যাট অ্যাবিগেইল স্প্যানবার্গার। তিনি পেয়েছেন ১৯ লাখ ৬৭ হাজার ৭১৯ ভোট, আর তাঁর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী উইনসম আর্ল-সিয়ার্স পেয়েছেন ১৪ লাখ ৪৩ হাজার ৮৫৭ ভোট। এটাই ভার্জিনিয়ার ইতিহাসে প্রথমবার কোনো নারী গভর্নরের নির্বাচিত হওয়া।
ক্যালিফোর্নিয়ার গণভোটেও রিপাবলিকানদের পরাজয়
একই দিনে ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় অঙ্গরাজ্যের সীমানা পুনর্নির্ধারণে সংবিধান সংশোধনী সংক্রান্ত গণভোট। যেখানে ডেমোক্র্যাটরা ছিলেন পক্ষে, রিপাবলিকানরা বিপক্ষে। ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়েছে বলে এনবিসি জানিয়েছে। এর ফলে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের অন্তত পাঁচটি আসন হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন
সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চারটি অঙ্গরাজ্যের এসব নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোটারদের একধরনের ‘ঝড়’ দেখা গেছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের এক বছর পূর্তির মধ্যেই ট্রাম্পের দলের এমন পরাজয় তাঁর প্রতি জনগণের বাড়তি অসন্তোষের ইঙ্গিত দেয়।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন, “ব্যালটে ট্রাম্প ছিলেন না। ফেডারেল সরকারও শাটডাউনে আছে—এগুলোই হারের কারণ।”