মাদক পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করতে মেক্সিকোতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৭ নভেম্বর) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মেক্সিকোতে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা বা সেনা পাঠানো নিয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, “মাদক ঠেকাতে যা যা প্রয়োজন, আমরা তা করব। গত সপ্তাহে মেক্সিকো সিটিতে যে অবস্থা দেখেছি, তা বড় ধরনের সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।”
এই ধরনের অভিযান মেক্সিকোর অনুমতি নিয়েই কি হবে—এ প্রশ্নে তিনি উত্তর এড়িয়ে গিয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি ইতোমধ্যেই মেক্সিকোর সঙ্গে আলোচনা করছেন এবং মেক্সিকো জানে তার অবস্থান কী।
ট্রাম্প আরও বলেন, “জলপথ আমরা বন্ধ করেছি, কিন্তু অন্য সব রুট আমরা জানি। প্রতিটি ড্রাগ লর্ডের অবস্থান পর্যন্ত আমাদের জানা আছে। তারা আমাদের মানুষ হত্যা করছে—এটা প্রায় যুদ্ধের মতো। আমি কি অভিযান চালাব? অবশ্যই গর্বের সঙ্গে করব।”
এ বিষয়ে ওয়াশিংটনে মেক্সিকো দূতাবাস কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এনবিসি নিউজের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদক কার্টেল মোকাবিলায় মেক্সিকোতে সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম স্পষ্ট জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া তার দেশে কোনো মার্কিন সামরিক অভিযান চলবে না।
মেক্সিকো প্রসঙ্গের মাঝেই ট্রাম্প কলম্বিয়ার কথাও তুলে ধরে বলেন, সে দেশে থাকা কোকেন কারখানা ধ্বংস করতেও তিনি গর্ববোধ করবেন। “দক্ষিণ সীমান্ত এখন নিরাপদ, কিন্তু মাদক কীভাবে আসে তা আমরা জানি। কলম্বিয়ায় কোকেনের কারখানা আছে—আমি কি সেগুলো ধ্বংস করব? গর্ব করেই করব।”
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন নৌপথে মাদক পরিবহনের অভিযোগে ভেনেজুয়েলার উপকূলে অন্তত দুই ডজন হামলা চালায়, যাতে ৮০ জনের বেশি নিহত হন—এদের মধ্যে কলম্বিয়ার নাগরিকও ছিলেন। এসব হামলায় ক্ষুব্ধ হয়ে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো তীব্র সমালোচনা করেন, যা দুই দেশের সম্পর্ককে উত্তপ্ত করে তোলে। পরে ট্রাম্প পেত্রোকে ‘ড্রাগ লিডার’ আখ্যা দেন এবং তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর চাপ বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির কার্টেল দে লস সোলেসকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি ট্রাম্প জানান, মাদুরোর সঙ্গে আলোচনার বিষয়টিও তিনি বিবেচনা করছেন।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) ওভাল অফিসে ট্রাম্প আরও বলেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সেনা পাঠানোর সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তার ভাষায়, “আমি কিছুই বাতিল করছি না। ভেনেজুয়েলার ব্যাপারটাও আমাদের সামলাতে হবে।”