ইউক্রেনকে ১০০টিরও বেশি রাফায়েল যুদ্ধবিমান দিচ্ছে ফ্রান্স। এর পাশাপাশি কিয়েভকে আধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ ও ড্রোনসহ দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে প্যারিস। আগামী ১০ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে এসব যুদ্ধবিমান ও সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হবে। গতকাল সোমবার ভিল্লাকুব্লে সামরিক বিমানঘাঁটিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
চুক্তির পর ব্রিফিংয়ে জেলেনস্কি বলেন, “আমরা বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও বৃহৎ একটি এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা পেতে যাচ্ছি।” এমন সময়েই এই সমঝোতা হলো যখন ইউক্রেনের ঝাপোরিজ্জিয়া প্রদেশে রুশ ও ইউক্রেনীয় বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। ইউক্রেনীয় সামরিক বিশ্লেষক সেরহি কুজহান বিবিসিকে জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া প্রতি মাসে গড়ে ৬০০ বা তারও বেশি গ্লাইড বোমা নিক্ষেপ করছে।
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে আমাদের জন্য যুদ্ধবিমান ও শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স অত্যন্ত জরুরি ছিল। ফ্রান্স যে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম দিচ্ছে, তার রেঞ্জ ২০০ কিলোমিটার— অর্থাৎ এই দূরত্বের মধ্যে আসা রকেট, বোমা বা ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা সম্ভব। তুলনায় রাশিয়ার ব্যবহৃত সিস্টেমের রেঞ্জ ২৩০ কিলোমিটার।”
এলিসি প্রাসাদ থেকে জানানো হয়, এই সমঝোতা কেবল সামরিক সরঞ্জাম কেনাবেচার চুক্তি নয়; বরং এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির অংশ। সেই প্রতিশ্রুতির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে রাশিয়ার স্থগিত রাখা অর্থ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যবহারের পরিকল্পনা।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর ম্যাক্রোঁ বলেন, “আমরা ইউক্রেনকে ১০০ রাফায়েল দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমাদের রাফায়েল, ড্রোন, গোলাবারুদ ও এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীকে আরও সক্ষম করে তুলবে।”
উল্লেখ্য, ফ্রান্সের তৈরি রাফায়েল বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত ও শক্তিশালী যুদ্ধবিমানগুলোর একটি। পঞ্চম প্রজন্মের এই বিমান ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭০০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫০ হাজার ফুট পর্যন্ত ওঠে। এটি একই সঙ্গে বিভিন্ন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে সক্ষম এবং ভারী অস্ত্রে সজ্জিত।