ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন—ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ যেকোনো পরিস্থিতিকে আটকা পড়লে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উদ্ধার করেন। ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আবার তা করেছেন। এবারের ডাকসু নির্বাচন বাংলাদেশে নতুন একটি মডেল সেট করেছে।
আজ বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পূর্ববর্তী বক্তব্যে এসব কথা বলেন জসীম উদ্দিন।
জসীম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন গণতন্ত্রবঞ্চিত, ভোটবঞ্চিত, ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ যখন যেকোনো পরিস্থিতিতে আটকা পড়ে, সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশকে উদ্ধার করেন। তাঁরা সেই সুযোগটা আবার এনে দিয়েছেন।
ডাকসু নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন কয়েকটি মাইলস্টোন সেট করে দিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, তাঁরা গত ২৯ মে তফসিল ঘোষণা করেছিলেন ডাকসু নির্বাচনের। তাঁরা কতগুলো মাইলস্টোন সেট করে দিয়েছিলেন। সেই মাইলস্টোনের শেষটি ছিল ৯ সেপ্টেম্বর। এদিন ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। ভোট গণনা শেষে এখন ফলাফল ঘোষণার পালা।
এবারের ডাকসু নির্বাচন বাংলাদেশে নতুন একটি মডেল সেট করেছে বলে উল্লেখ করেন জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, ম্যাক্সিমাম ভোটার ছিলেন নতুন। সেদিক থেকে নির্বাচন আয়োজনের অনেক পদ্ধতি আছে। নির্বাচন আয়োজন না করতে করতে কিন্তু অনেক সময় অনেক পদ্ধতি জানার বাইরে চলে যায়। এই ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁরা একটা সুন্দর মডেল সেট করতে পেরেছেন। যেটা বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক বড়ো বড়ো কলেজ অনুসরণ করবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
শতভাগ ভোট কখনো গ্রহণ সম্ভব হয় না বলে উল্লেখ করেন জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের কথাগুলোকে আমলে নিয়েছিলাম। আপনারা যাতে কোনো ধরনের লাইনে কোনো ধরনের হ্যাসেল না হয়, তাই ৮টি কেন্দ্রে ৮৫০টি বুথ স্থাপন করেছিলাম।’
ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তাজনিত জটিলতা হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শুরুতে কিছু শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেটি অমূলক প্রমাণিত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “যারা স্নাইপারের সামনে দাঁড়াতে পারে, যারা গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নিতে পারে, তাদের নিরাপত্তার জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা প্রয়োজন হয় না। ছাত্রছাত্রীরা নিজেরাই সেটি প্রমাণ করেছে। ফলে আমাদের কোনো দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়নি। সারা দিন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট সম্পন্ন হয়েছে।”
চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার সময় সিনেট ভবনে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের অন্যান্য রিটার্নিং কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
এবারের ডাকসু নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট। এই প্যানেল থেকে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছেন আবু সাদিক কায়েম, যিনি পেয়েছেন ১৪ হাজার ৪২ ভোট। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) হয়েছেন এস এম ফরহাদ, তাঁর প্রাপ্ত ভোট ১০ হাজার ৭৯৪। আর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জয়ী হয়েছেন মো. মহিউদ্দীন খান, যিনি পেয়েছেন ১১ হাজার ৭৭২ ভোট।