খালেদ মহিউদ্দিন কেন হাসিনার সাক্ষাৎকার নিতে চান বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন লেখক, অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিনাকী ভট্টাচার্য। বুধবার ফেসবুক পোস্টে তিনি এ ব্যখ্যা করেন।
পিনাকী ভট্টাচার্য লেখেন, খালেদ মহিউদ্দিনের এই “হাসিনার সাক্ষাৎকার নিতে চাই” কথাটা আসলে সাংবাদিকতার চেয়ে অনেক বেশি পলিটিক্যাল থিয়েটার। সে জানে সাক্ষাৎকারটা এখনই হবে না, কিন্তু এই চাওয়ার ঘোষণা দিয়েই সে একাধিক স্তরে লাভ তুলছে। কিন্তু কেন সে এটা মার্কেটে ছাড়লো?
১. “আমি নিরপেক্ষ” ব্র্যান্ডিং
সে নিজেকে এমন একজন সাংবাদিক হিসেবে উপস্থাপন করছে যে, “আমি পক্ষপাতী নই, সবাইকে প্রশ্ন করি।” হাসিনার পতনের পর সাংবাদিক সমাজের বড় অংশকে শত্রু হিসেবে দেখা হলেও, এই বার্তা তার ইমেজে ব্যালান্স ফিরিয়ে আনে।
২. “Narrative grab”
হাসিনা এখন একটি “mythical exile figure” — যত বেশি নীরব, তত বেশি রহস্য। যে প্রথম তাকে মিডিয়ার সামনে আনবে, সেই বর্ণনা নিয়ন্ত্রণ করবে। খালেদ মহিউদ্দিন হয়তো ভাবছে, “যদি আমি প্রথম পোস্ট-হাসিনা সাক্ষাৎকার পাই, তা ইতিহাসে আমার নামে থাকবে।” এটি শুধু সাংবাদিকতার নয়, ব্র্যান্ড রিক্লেইমের লড়াইও।
৩. হাসিনা = নিউজ মার্কেটের মূল্যবান ‘কারেন্সি’
হাসিনাকে কেন্দ্র করে ক্লিক, রিচ, বিতর্ক পাওয়া যায়। “আমি সাক্ষাৎকার নিতে চাই” বলা আসলে একটি সফট প্রোভোকেশন।
৪. রাজনৈতিক সেন্সিং ও তথ্য সংগ্রহ
সে হয়তো হাসিনা কোথায়, কার সাথে যোগাযোগে, কীভাবে রিটার্ন প্রস্তুত করছে তা টের পাচ্ছে। এই ঘোষণার মাধ্যমে সে একটি safe channel খুলছে: “আমি কথা বলার জন্য প্রস্তুত, যদি আমাকে বেছে নাও।”
৫. বুদ্ধিবৃত্তিক চাল – বিতর্ক টানার চেষ্টা
হাসিনাকে জনমনে শত্রু বা দানব হিসেবে দেখা হলেও, তাকে আলোচনা বিষয় বানিয়ে সে ‘civil discourse’-এর দাবি তুলে ধরছে। একভাবে সে মধ্যপন্থী বুদ্ধিজীবীর জায়গা দখল করতে চাইছে। “যদি শত্রুকেও প্রশ্ন করতে না পারি, গণতন্ত্র কোথায়?” — এই যুক্তিতে নিজেকে হাই মরাল গ্রাউন্ডে তুলে ধরছে।
৬. মিডিয়া কৌশল – “Signal without delivery”
সে জানে বাস্তবে সাক্ষাৎকার হবে না, কিন্তু এই ঘোষণা একটি প্রতীকী বার্তা।
এটা একটা নিরাপদ বিতর্কের বোমা:
বললেই খবর হয়,
না পেলেও ক্ষতি নেই,
পেলে ইতিহাস।
৭ ব্যক্তিগত স্বীকৃতি ও “legacy interview” এর আশা: যেমন, ক্রিস্টিয়ান আমানপুরের সাথে গাদ্দাফির সাক্ষাৎকার, ডেভিড ফ্রস্টের সাথে নিক্সন।
খালেদ মহিউদ্দিন হয়তো ভেবেছে:
“যদি ইতিহাস হাসিনাকে পতিত একনায়ক হিসেবে মনে রাখে, তাহলে তার মুখ থেকে প্রথম স্বীকারোক্তিটা আমি তুলতে চাই।”
৮ আত্মপক্ষ সমর্থনেরও একটা লজিক
সে হয়তো বুঝছে অনেকেই এখন তাকে “Hasina-era beneficiary” হিসেবে দেখে।
তাই এই ঘোষণার মাধ্যমে বলছে —
“আমি কারও দালাল না, আমি শুধু কাজ করছি।”
অর্থাৎ এটা একধরনের ‘narrative cleansing’।
খালেদ মহিউদ্দিন হাসিনাকে আনবে। আজ না হোক কাল আনবে। এটা তার ব্যক্তিগত অর্জনের প্রশ্ন। সে সাহস সঞ্চয় করতেছে।
খালেদ মহিউদ্দিন সেই মুক্তামালার একটা রত্ন, যা গেথে একটা মালা তৈরি করা হচ্ছে, যার অন্য রত্নগুলো আগুন, আওয়ামী মিছিল, ক্যু প্রচেষ্টা, গৃহযুদ্ধের হুমকি, ইনক্লুসিভ নির্বাচনের চাপ। সবকিছু একটাই প্যাকেজ। বাংলাদেশে আবারো ফিরে আনতে হবে, ভারতীয় আধিপত্যবাদ।