ইউক্রেন ও রাশিয়ার সংঘাত শেষ করতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চলমান শান্তি উদ্যোগের বৈঠকের পর অপ্রত্যাশিতভাবে উত্তেজনা এবং অনিশ্চয়তার ছায়া নেমে এসেছে। বাংলাদেশ সময় রোববার (২৩ নভেম্বর) রাতে বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব ড্যান ড্রিসকলকে জেনেভার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে বের হতে দেখা গেছে। নিরাপত্তা এবং সামরিক উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা তাদের ঘিরে রেখেছিলেন। এই সময় সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন যে, ট্রাম্প ইউক্রেনকে ‘অকৃতজ্ঞ’ বলার অভিযোগ সম্পর্কে কি মন্তব্য করবেন, তবে মার্কিন কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বৈঠকের আগে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদল আশাব্যঞ্জক সুরে জানিয়েছিল যে আলোচনার পরিবেশ ইতিবাচক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। মার্কিন প্রতিনিধিরা ১৮তম তলায় আলোচনার কক্ষে প্রায় আধঘণ্টা একা থাকার পর ওয়াশিংটন থেকে আসে একটি কঠোর বার্তা। ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে বড় হাতের অক্ষরে লিখেছেন, ‘ইউক্রেনের নেতারা আমাদের প্রচেষ্টার জন্য কোনো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেননি এবং ইউরোপ এখনও রাশিয়ার থেকে তেল কিনছে।’
ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, তিনি এমন এক যুদ্ধ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছেন যা কখনো ঘটার কথা ছিল না এবং এই সংঘাত সব পক্ষের জন্য ক্ষতিকর। তার অভিযোগ, ইউরোপের রাশিয়ার তেল ক্রয় এবং ইউক্রেনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
বিশ্লেষকরা অবশ্য ট্রাম্পের এই অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই বলে মন্তব্য করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বহুবার প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন। দুই বছর আগে রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকে জেলেনস্কির বিরুদ্ধে ‘কৃতজ্ঞতা না দেখানোর’ অভিযোগ ওঠার পর থেকে তিনি নিয়মিতভাবে মার্কিন সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আসছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে বৈঠকের পরও জেলেনস্কি একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন।
এদিকে জেলেনস্কি এক্স মাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি ক্রোয়েশিয়া ও লুক্সেমবার্গের প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করে জেনেভার আলোচনার আপডেট শেয়ার করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমরা এমন এক ফলাফলের অপেক্ষায় আছি, যা সত্যিকারের এবং স্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করবে।’ একই সময়ে তিনি বিশ্বের সব নেতা এবং জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন যারা ইউক্রেনকে সমর্থন করছেন।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ শেষ করার জন্য ২৮ দফা প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। এর পর ইউরোপীয় দেশগুলোও ২৪ দফার পৃথক প্রস্তাব নিয়ে এসেছে। এই দুই প্রস্তাবের মধ্যে কিছু মূল পার্থক্য দেখা গেছে।