ওবামার ফোনে মামদানির উচ্ছ্বাস, নিউইয়র্ক নির্বাচনে নতুন গতি
নিউইয়র্ক : নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনের ঠিক আগে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোহরান মামদানি পেলেন এক বিশেষ প্রেরণার বার্তা। শনিবার সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁকে ফোন করে তাঁর প্রচারণার প্রশংসা করেন এবং নির্বাচনে জয়ী হলে “সহযোগিতা ও পরামর্শে পাশে থাকবেন” বলে আশ্বাস দেন।
ওবামা ও মামদানির এই ফোনালাপের খবরটি প্রথম প্রকাশ করে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। পরে মামদানির মুখপাত্র ডোরা পেকেক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ওবামার সমর্থনের কথায় মামদানি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত। তাঁরা আলোচনা করেছেন, কীভাবে নিউইয়র্কে এক নতুন ধরনের অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি গড়ে তোলা যায়।”
৩৪ বছর বয়সী উগান্ডা–জন্ম মামদানি বর্তমানে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য এবং আসন্ন মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে আছেন। সর্বশেষ জরিপে তিনি সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমোর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। কুয়োমো ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে পরাজিত হয়ে এবার স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন, আর রিপাবলিকান দলের প্রার্থী হিসেবে আছেন ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেলস’-এর প্রতিষ্ঠাতা কার্টিস স্লিওয়া।
গত জুনে প্রাইমারিতে মামদানির জয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলেছিলেন “অপ্রত্যাশিত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ এক মোড়”। সেই জয় থেকেই শুরু তাঁর উত্থান—যেখানে এখন তিনি দলে দলে সমর্থন পাচ্ছেন প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতাদের কাছ থেকে, তাঁদের মধ্যে আছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ও নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল। ছোট দাতাদের কাছ থেকে ধারাবাহিক অনুদানও তাঁর প্রচারণাকে শক্ত ভিত্তি দিয়েছে।
তবে মামদানির নীতিগত অবস্থান নিয়ে শহরের ব্যবসায়ী ও আর্থিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। তিনি ধনীদের ওপর কর বৃদ্ধি, কর্পোরেট কর বাড়ানো, ভাড়া স্থিতিশীল রাখার নীতি অব্যাহত রাখা এবং সরকারি ভর্তুকিতে আবাসন সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন—যা সমালোচকদের মতে, নিউইয়র্কের প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতিতে চাপ ফেলতে পারে।
এছাড়া তাঁর “ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্র” এবং ইসরায়েল–প্যালেস্টাইন প্রশ্নে অবস্থান নিয়ে রিপাবলিকানদের সমালোচনাও জোরদার হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্কের মধ্য দিয়েই মামদানির উত্থান তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করছে।
শনিবার ওবামা নিউইয়র্কে না থাকলেও নিউ জার্সি ও ভার্জিনিয়ায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের প্রচারে অংশ নেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষায়, নিউইয়র্কে মামদানির সঙ্গে তাঁর এই ফোনালাপ শুধু সৌজন্য নয়—এটি এক প্রতীকী ইঙ্গিত যে, ডেমোক্র্যাট পার্টির আগামী প্রজন্মের নেতৃত্বে জায়গা করে নিচ্ছেন এই তরুণ মুসলিম প্রার্থী।