ডিএইচএস: দেশীয় নিরাপত্তা থেকে সরিয়ে অভিবাসন অভিযান কেন্দ্রিক রূপান্তর
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’ (ডিএইচএস) এখন মূল দায়িত্বের তুলনায় বড় অংশ খরচ করছে অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার ও বহিষ্কারে। নিউইয়র্ক টাইমসের মাসব্যাপী তদন্তে দেখা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন-কেন্দ্রিক নীতির কারণে শিশু যৌন নিপীড়ন, মানবপাচার, সন্ত্রাসী অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের তদন্ত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ডিএইচএস–এর ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই)’ এর হাজারো বিশেষ এজেন্টকে তাদের মূল দায়িত্ব থেকে সরিয়ে মাঠে পাঠানো হচ্ছে শুধুমাত্র অভিবাসী গ্রেফতার, ডিটেনশন সেন্টারে পরিবহন এবং ফাইল তৈরি করার কাজে। ফলে শিশু যৌন নিপীড়ন মামলায় ব্যয় হওয়া সময় ৩৩% কমেছে, এবং নিউয়ার্ক, লস অ্যাঞ্জেলেসসহ কয়েকটি শহরে অনলাইনে শিশু নির্যাতন নেটওয়ার্কের তদন্ত থমকে গেছে।
প্রবীণ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হেনি ফারিদ বলেন, “শিশু সুরক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন দাবি যথেষ্ট নয়—যেসব এজেন্ট প্রকৃত সুরক্ষা দেয়, তাদের সরালে সন্তানরা আরও ঝুঁকিতে পড়ে।”
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাতেও ক্ষতি হয়েছে। ইরানের চোরাই তেল বিক্রির নেটওয়ার্ক ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন বন্ধের চলমান তদন্ত অনেক মাসে গতি হারিয়েছে। অভিবাসী অভিযানে এজেন্ট মোতায়েনের কারণে গুরুত্বপূর্ণ নথি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, এবং তেলের খেলাপি ট্যাঙ্কার হারিয়ে গেছে।
স্থানীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ৯/১১-এর পর অর্জিত অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন অভিবাসন কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রীকরণে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা একাডেমির অন্যান্য প্রশিক্ষণ স্থগিত হয়েছে, ফলে নতুন এজেন্ট নিয়োগ ও বিদেশি সুরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কোস্ট গার্ডের সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ বিমানের কিছু অংশও এখন অভিবাসী পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে। মানবপাচার ও যৌনপাচার তদন্তও থেমে গেছে, কারণ গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের “অ্যান্টি-ক্রাইম অপারেশন”-এ ব্যস্ত।
ডিএইচএস–এর বাজেটেও অভিবাসন খাতের অনুপাত ৩৭% থেকে ৫০%-এর বেশি বেড়ে গেছে। আইস–এর কর্মী সংখ্যা ৬৬% বৃদ্ধি পাবে, ফলে এটি দেশের সর্বোচ্চ অর্থায়নপ্রাপ্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে গড়ে উঠছে। হোয়াইট হাউস নিয়মিত ফোন কলের মাধ্যমে গ্রেফতারের সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশ দিচ্ছে।
সাবেক মুখপাত্র ডেভিড লাপান সতর্ক করেছেন, “এই বিভ্রান্তি বিপজ্জনক, দেশের মূল নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে।” অন্যদিকে ট্রাম্প-সমর্থকরা বলছেন, পরিবর্তনটি প্রয়োজনীয় ছিল এবং প্রশাসন কংগ্রেস ছাড়াই ডিএইচএস-এর গতিপথ স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করছে।